সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্য

সর্বমোট পঠিত : 26 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ইতিবাচক দিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি প্রাণহানির এই শূন্যের অঙ্ক ধরে রাখতে সীমান্ত এলাকার জনসাধারণকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকতে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

নতুন সরকারের প্রথম মাসে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নেমে আসা একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে হত্যাকাণ্ডের অতীতের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতিকে কার্যকর নেতৃত্ব ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রতিফলন হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এক মাস পূর্ণ করেছে নতুন সরকার। এই এক মাসের খতিয়ানে সবচেয়ে স্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী দৃশ্যপটের বিপরীতে গত এক মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেওয়া কঠোর বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিজিবির অধিকতর সতর্ক ও স্বপ্রণোদিত ভূমিকা জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ অতীতের অনেক চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, বিদায়ী ২০২৫ সালে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যা ছিল গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। সেই রক্তঝরা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গত এক মাসে সীমান্তে প্রাণহানি না হওয়াকে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে নামিয়ে আনতে গোয়েন্দা তৎপরতার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতিকে একটি ‘ইতিবাচক দিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীরাও সরকারের প্রথম মাসের এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বাহিনীটি প্রাণহানির এই শূন্যের অঙ্ক ধরে রাখতে সীমান্ত এলাকার জনসাধারণকে অবৈধ অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকতে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

এ ছাড়া বিজিবি চোরাচালান ও মানব পাচারবিরোধী অভিযান জোরদারে অধিকতর দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। এ সময় বিজিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ মাদকসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ চলাচলের সময় আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার এই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে, যাতে সীমান্ত শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীক হতে পারে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি