সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে

সর্বমোট পঠিত : 7 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, কাঁধে বইয়ের ব্যাগ, এক হাতে জুতা নিয়ে অন্য হাতে পরনের কাপড় ধরে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটুপানি জমে। এতে স্কুলের পোশাকের সঙ্গে জুতা পরে আসা গেলেও তা পরে চলাচল করতে পারিনা। স্যান্ডেল পরে এলেও হাতে নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট হেটে ক্লাসে আসতে হয়। বর্ষাকালে আমরা মাঠে খেলতে পারিনা। আমাদের খুব সমস্যা, প্রত্যেকদিন কষ্ট করন লাগে। আমরা এই কষ্ট আর সমস্যার একটা সমাধান চাই। এসব কথা জানায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরের 'ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বায়োজিদ হাসান। শুধু তার কথা নয়, বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক ছাত্র শিক্ষকের কথা এটা। 

পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয় 'ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়' মাঠ। বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া করা যায় না।
এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা থেকে। ব্যাহত হচ্ছে সৃজনশীল কাজ ও প্রতিদিনের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি)। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করাসহ পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে সরকারিকরণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ৫৪০ জন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ২৩ জন। বিদ্যালয়ের পাশে বাজারের প্রধান সড়কের চেয়ে প্রায় দুই ফুট নিচে বিদ্যালয়ের মাঠ। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের তিন পাশে নতুন করে বাড়িঘর নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠ শুকনা থাকলেও বর্ষা মৌসুমে শুরু হয় দুর্ভোগ। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষককর্মচারী ও অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের। 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) হারুন অর রশিদ বলেন, বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে। সৃষ্ট হয় জলাবদ্ধতার। একসপ্তাহেও পানি নিষ্কাশন হয়না। এসময় অ্যাসেম্বলি করানো যায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রেজ্জাক বলেন, আমি গত বছর ডিসেম্বরে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। শুনেছি অনেক বছর ধরে বিদ্যালয় মাঠটির এই অবস্থা। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও মাঠে মাটি ভরাট করলে সমস্যার সমাধান হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে  লিখিতভাবে অবগত করা হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি