ফ্লোরিডা থেকে লালডোবা: মেধার যাত্রা ফিরল কফিনে

সর্বমোট পঠিত : 28 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

লিমনের স্বজনরা জানান, পরিবারের আশা-ভরসার প্রতীক ছিলেন তিনি। তাকে ঘিরেই ছিল অসংখ্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এলাকার বাসিন্দারাও এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন জামিল আহমেদ লিমন। কিন্তু সেই স্বপ্নভরা যাত্রার করুণ সমাপ্তি হলো কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামে ফেরার মধ্য দিয়ে। সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে তার মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দুপুর ৩টা ১২ মিনিটে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে আনা হয়। বাদ মাগরিব স্থানীয় লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় ছোট দাদুর (দাদার ভাই) কবরের পাশে।

লিমনের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র বড় ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা জহরুল হক বিলাপ করে বলেন, ‘যা হারিয়েছি, তা পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। আমি শুধু চাই, আমার ছেলের মতো আর কোনো সন্তান যেন এমন নির্মম পরিণতির শিকার না হয়।’

জহুরুল আরও বলেন, ‘সন্তানকে কখনো কষ্ট দেয়নি। শুধু মুখে শাসন করেছি। তাহলে কেন তাকে এত নির্দয়ভাবে হত্যা করা হলো?’—এই প্রশ্নই বারবার ফিরে আসে তার কণ্ঠে। একইসঙ্গে তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি শুরু করেন লিমন। গত ১৬ এপ্রিল তিনি নিখোঁজ হন। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন সহপাঠী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবোরো কাউন্টিতে একটি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। 

পরিবার জানিয়েছে, তারা তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছে।

লিমনের স্বজনরা জানান, পরিবারের আশা-ভরসার প্রতীক ছিলেন তিনি। তাকে ঘিরেই ছিল অসংখ্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এলাকার বাসিন্দারাও এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই বেদনাদায়ক। বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এই ঘটনা।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি