শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন: ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

সর্বমোট পঠিত : 23 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন-‘সারা দেশের মতো এ আসনের নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ইতোমধ্যে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিরাজ করছে ভোটের আমেজ । সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। মানুষের মন জয় করতে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা চেষ্টা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শেরপুর জেলা জামায়াতের ব্যবসায়িক শাখা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মিজানুর রহমানও শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি।

তবে ভোটাররা বলছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে তারা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে  বদ্ধপরিকর তারা।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে আসনটিতে নির্বাচন স্থগিত হয়। পরে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি, জামায়াত ও বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থীরা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসন। আসনটিতে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬ জন ও নারী ভোটার আছেন ২ লাখ ৮ হাজার ৩০৪ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন সাতজন।

প্রচার শুরুর পর থেকেই প্রার্থীরা সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে অংশ নিয়ে জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। ব্যস্ত রয়েছেন আলাদা আলাদা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানান প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন, অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে অভিজ্ঞ, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন তারা, সেইসঙ্গে চান ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।

বিএনপি সরকার গঠন করায় এই আসনের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি দলকেই বেছে নেবেন বলে প্রত্যাশা বিএনপি প্রার্থীর। দলটির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেন- ‘আমার এই আসনটিতে নানান সমস্যা রয়েছে। আমি জয়ী হলে এসব সমস্যা নিরসনে কাজ করব। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। বিএনপি যেহেতু সরকার গঠন করেছে কাজেই আমি জয়ী হলে এসব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারব। আমার এ অঞ্চলে আমি তিনবারের এমপি ছিলাম, আমার বাবা এমপি ছিল। আমরা মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি। তাই মানুষ আমাকেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

জামায়াতের প্রার্থী বলছেন, ভোটের মাঠে ভোটারের চাওয়াটা মুখ্য। তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন- ‘আমার ভাই নিহত নুরুজ্জামান বাদল মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল। আমিও সেই ধারা অব্যাহত রেখে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছি। ভোটাররাও আমাকে আশ্বস্ত করছেন। আমার বিশ্বাস, ভোটাররা নিশ্চয় আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন-‘সারা দেশের মতো এ আসনের নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ইতোমধ্যে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি