আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও কবিগণ আনুষ্ঠানিকভাবে কাব্যগ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় জেলার অর্ধশতাধিক কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলমান অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত সাহিত্যানুষ্ঠানে পরিণত হয়।
শেরপুরে ‘বিষাদের ঘোড়া’ ও ‘নীলকন্ঠের গান’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
শেরপুরে ‘বিষাদের ঘোড়া’ ও ‘নীলকন্ঠের গান’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
কবিসংঘ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি, কবি ও গীতিকার রফিকুল ইসলাম আধারের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত ‘বিষাদের ঘোড়া’ ও ‘নীলকন্ঠের গান’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি, বিশিষ্ট কবি ও কলামিস্ট কাকন রেজা। ওইসময় তিনি বলেন, বিশ্বে বাংলা সাহিত্যের অবস্থান তেমন নয়। কারণ আমরা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সেভাবে লালন করি না। যেখানে যাপিত জীবনের ছায়া হচ্ছে সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতি আমাদের ক্ষেত্রে আজও একটি অলীক জায়গায় রয়ে গেছে। ফলে আমরা আজও অতীতমুখী, ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে ভয় পাই। তিনি ‘বিষাদের ঘোড়া’ ও ‘নীলকন্ঠের গান’ কাব্যগ্রন্থের সাফল্য কামনা করে বলেন, কবি রফিকুল ইসলাম আধার সাহিত্যকে মনেপ্রাণে লালন করেন। এখনও একটি সংগঠনের মাধ্যমে নিয়মিত কবিতার আসর বসান। তিনি এ অঞ্চলের কবি-লেখকদের সংগঠিত করছেন, নিজেও লিখছেন। পেশার পাশাপাশি সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে তার যে দুর্দান্ত স্পৃহা, তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে শেরপুরের সাহিত্যাঙ্গনে আবারও পুনর্জাগরণ ঘটবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. সুধাময় দাস। ওইসময় তিনি বলেন, রফিকুল ইসলাম আধার নব্বই দশক থেকে লেখালেখির সাথে যুক্ত একজন শক্তিমান কবি। তার সদ্য প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে আমাদের যাপিত জীবনের সকল অনুষঙ্গই রয়েছে। রয়েছে প্রেম, প্রকৃতি, বিরহের বার্তা, সুখ, দুঃখ ও আশার পাশাপাশি বিদ্রোহও। সমাজ জীবনে ব্যবহৃত কিছু হারিয়ে যাওয়া শব্দও তার কবিতায় উঠে এসেছে। তার নানামুখী চোখ দিয়ে তিনি অনেক কিছু দেখেছেন, প্রকৃতিকে দেখেছেন। দেখতে দেখতে ঘুরেফিরে সবগুলোই তার কবিতার মধ্যে উপস্থিত করেছেন। এটাই মুন্সিয়ানা। আমি তার কবিতায় মুন্সিয়ানাই দেখতে পেয়েছি। শক্তিমান কবিতার যে বৈশিষ্ট্য সেসব তার কবিতার মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে।
পরে নিজের প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থের উপর অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি রফিকুল ইসলাম আধার। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন তার সাহিত্য ও সাংবাদিকতার চারণক্ষেত্র সাপ্তাহিক শেরপুর-এর প্রয়াত সম্পাদক কবি আব্দুর রেজ্জাকের পাশাপাশি সাপ্তাহিক দশকাহনীয়ার সম্পাদক কবি মুহাম্মদ আবু বকর ও কবিসংঘ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত কবি তালাত মাহমুদ। তিনি তাদের অনুসৃত পথ ধরেই এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। পাশাপাশি যন্ত্রচালিতের মতো ব্যস্ত জীবনেও সবার উৎসাহে লিখছেন। এজন্য তিনি সকলের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
কবিসংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুল আলীম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুটি কাব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, কবি অধ্যাপক মোস্তফা জিন্নাহ, কবি আরিফ হাসান, কবি জ্যোতি পোদ্দার, কবি অধ্যক্ষ আইয়ুব আকন্দ বিদ্যুৎ, কবি ও শিশু সাহিত্যিক মোস্তাফিজুল হক, কবি ও গবেষক ড. বিভুতিভূষণ মিত্র, কবি আশরাফ আলী চারু প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল, কবি হাফিজুর রহমান লাভলু। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা পাঠ করেন কবি ও ছড়াকার নুরুল ইসলাম মনি, কবি রবিউল আলম টুকু, মহিউদ্দিন বিন জুবায়েদ, কমল চক্রবর্তী, শওকত হোসেন, নবীজল হক রানা, হাসান শরাফত, আবু বক্কর সিদ্দিক, জীবন কুমার চক্রবর্তী, আজাদ সরকার, নাছিম তালুকদার, মঞ্জুরুল হক, শেখ জামাল, শামীম হোসেন, নুরুল ইসলাম নাযীফ, শেখ ফয়জুর রহমান, সাইফুল ইসলাম জুয়েল, শাহীন খান, খালেদুর রহমান, কামরুজ্জামান বাদল, কালাম বিন আব্দুর রশীদ, হানজালা মাহমুদ, সাংবাদিক মেহেদী হাসান শামীম, কবি আব্দুর রহমান রাব্বী প্রমুখ।
আলোচনা শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও কবিগণ আনুষ্ঠানিকভাবে কাব্যগ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় জেলার অর্ধশতাধিক কবি-সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে চলমান অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত সাহিত্যানুষ্ঠানে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, বিষাদের ঘোড়া কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন বিশিষ্ট কবি, লোকগবেষক শিহাব শাহরিয়ার। এটির কবি পরিচিতি লিখেছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক মোস্তাফিজুল হক। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবির প্রয়াত পিতা শিক্ষক-সমাজসেবী মোহাম্মদ আলী মাস্টারকে। বইটিতে স্থান পেয়েছে ৬৬টি কবিতা। আর নীলকণ্ঠের গান কাব্যগ্রন্থের মুখবন্ধ লিখেছেন কবি ও শিশু সাহিত্যিক মোস্তাফিজুল হক। এটির কবি পরিচিতি লিখেছেন কবি ও বিশ্লেষক বিপ্লব সাহা। এটি উৎসর্গ করা হয়েছে কবিসংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত কবি তালাত মাহমুদকে। বইটিতে স্থান পেয়েছে ৬৭টি কবিতা। দুটি গ্রন্থেরই প্রচ্ছদ এঁকেছেন বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মোমিন উদ্দিন খালেদ। আর দুটি গ্রন্থই প্রকাশ করেছে নবসাহিত্য প্রকাশনী। একই প্রকাশনীর মাধ্যমে গত বইমেলাতেও তার আরও দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
মন্তব্য