ইসলাম প্রচারক সৈয়দ জান মিয়া পরিবারের ঈদপুনর্মিলনীতে জড়ো হয়েছেন দেশ-বিদেশের উত্তরসূরিরা

সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া) পরিবারের ঈদপুনর্মিলনীতে দেশ-বিদেশের উত্তরসূরিরা
সর্বমোট পঠিত : 35 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

আয়োজক সৈয়দ আব্দুল আদিল রুপস জানান, আমরা অনেকদিন থেকে এরকম একটি পোগ্রাম করার চিন্তা করছিলাম। এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জান মিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এমন আয়োজন এখন থেকে প্রতিবছর থাকবে।

শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ির প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় নেতা ও সমাজসংগঠক সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া)-এর উত্তরসূরিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী পারিবারিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয় ২৩ মার্চ।


জানা গেছে, শহরের মধ্যশেরী মিয়াবাড়িতে প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল হান্নান (সাজু মিয়া)-এর বাসভবনে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ-বিদেশ থেকে তিন শতাধিক আত্মীয়-স্বজন অংশগ্রহণ করছেন। উপস্থিতদের মধ্যে বিচারপতি, সচিব, সেনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার গুণীজন রয়েছেন।


আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় আগমন ও চা-নাস্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পারিবারিক পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময়, নামাজ ও কবর জিয়ারত, মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রাতে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


ঐতিহাসিকভাবে সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া) শেরপুরের মুসলিম সমাজে এক প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি শেরপুর সদরের মিয়াবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন সৈয়দ মাইদান আলী। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পণ্ডিত ফসিহুর রহমান তাঁর গ্রন্থ “শেরপুর জেলার অতীত ও বর্তমান”-এ জান মিয়ার অবদান উল্লেখ করেছেন।


জানা যায়, জান মিয়ার পূর্বপুরুষরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে এ অঞ্চলে আগমন করেন। তিনি সিলেটের সুফি সাধক শাহ চিনতি মাসুক (রহ.)-এর বংশধর।


১৯০৩ সালে শেরপুরের ঐতিহাসিক মাইসাহেবা জামে মসজিদ সম্প্রসারণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। তৎকালীন জমিদার রাধা বল্লভ চৌধুরীর বাধা সত্ত্বেও জান মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা ঢাকার নবাব নবাব সলিমুল্লাহ-এর সহযোগিতা নিয়ে মসজিদ সম্প্রসারণে সফল হন।


এছাড়া মসজিদের জমি রক্ষায় আইনি লড়াইয়েও তাঁর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী মাইসাহেবা জামে মসজিদ শেরপুরের অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।


স্থানীয়রা জানান, জান মিয়া শুধু ধর্মীয় নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; তিনি শেরপুরের মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর নেতৃত্ব পরবর্তীকালে এ অঞ্চলের মুসলিমদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

পরিবারের সদস্য ঢাকা মহানগরের কাউন্সিলর মুন্সি বজলুর রশিদ বলেন, আমি এই মিলন মেলায় এসে খুব উপভোগ করছি। আসলেও এর আগে এমন আয়োজন কেউ করেনি। দেশের সম্প্রতি ঠিক রাখতে প্রতিটি পরিবারেই মিলন মেলা প্রয়োজন।

অবসরপ্রাপ্ত সামরিক জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর কর্মকর্তা জানান, আমি এই পরিবারে বিয়ে করে এই পরিবারের সদস্য হতে পেরে গর্বিত। আমি চাই এমন আয়োজন প্রতি বছর বছর হোক।

সৈয়দ সাইফুল হক ওপেল জানান, আমরা ছেলে বুড়ো সকলে এক হয়েছি। দেশ ও দেশের বাইরের তিনশর ওপরে বংশধর এখানে উপস্থিত রয়েছেন। আমাদের হাজারের ওপরে বংশধর রয়েছে। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার। সারাদিন আমাদের বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে। এরকম আয়োজন আমরা প্রতিবছর চাই।

আয়োজক সৈয়দ আব্দুল আদিল রুপস জানান, আমরা অনেকদিন থেকে এরকম একটি পোগ্রাম করার চিন্তা করছিলাম। এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে জান মিয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অবদান তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এমন আয়োজন এখন থেকে প্রতিবছর থাকবে।


মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি