শেরপুরে অবৈধভাবে পরিবহন ও মজুদকৃত ৮ হাজার সরকারি বই জব্দ

ছবি: ভ্যানবর্তী এবং গোডাউন থেকে এসব বই জব্দ। ইনসেটে মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিক অপু।
সর্বমোট পঠিত : 8 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানান, খবর পেয়ে ভ্যানগাড়ির বইগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্তে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরে অবৈধভাবে পরিবহন ও মজুদকৃত ৮ হাজার সরকারি বই জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এর তথ্যের ভিত্তিতে ১ মার্চ সন্ধায় জেলা শহরের নওহাটার উত্তরা স্কুলের বিপরীত পার্শ্বে মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের সামনে থেকে ভ্যানবর্তী এবং গোডাউন থেকে এসব বই জব্দ করা হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিক অপু ও তার ভাই শাহীন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে কমদামে সরকারি পাঠ্য বই কেজি দরে ক্রয় করে অধিক লাভে বিক্রি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১ মার্চ বিকেলে একভ্যান গাড়ি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্মাদ্রাসা বোর্ডের (৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণি) আনুমানিক ২৫০০ কপি সরকারী বই মজুদ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জেলা এনএসআই এর কর্মকর্তাদের জানায়। পরে এনএসআই এর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে বইগুলো আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ মাহবুবা হকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযান চালিয়ে (৬ষ্ঠ–১০ম শ্রেণি) প্রায় ২৫০০ কপি সরকারী বইও ভ্যান জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। 

একইসাথে মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরে তল্লাশী করে ওই গোডাউনের ভেতরে প্রায় ৬০০০ কপি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সরকারী মাধ্যমিকের বই মজুদ অবস্থায় জব্দ করে গোডাউনটা সিলগালা করা হয়।

এ ব্যাপারে ভ্যানচালক তজি মিয়া বলেন, রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিকের ভ্যান দিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার আড়াইআনী বাজার ব্রিজ এলাকার সেলিম ভাঙ্গারী দোকান থেকে বইগুলো আনা হয়েছে। 

তবে পুলিশ আসার পরে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে ভ্যানচালক সরে যায়।

এবিষয়ে মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিক অপু মিয়া এসব বই তার নয় বলে জানিয়ে সেও গা-ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে তার গোডাউন থেকে একই ধরনের আরও ৬ হাজার বই পাওয়া যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ জানান, গত বছর বইয়ের সংকটের কারণে একেক শিক্ষার্থীকে ৩/৪টি করে বই দেওয়া হয়েছিল। অথচ এরাই নতুন বই লুকিয়ে রেখে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।এ ঘটনার সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সদর থানার এসআই সুশান্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানগাড়িসহ নতুন বইগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। আর ইউএনও মহোদয় গোডাউন সিলগালা করে রেখেছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক জানান, খবর পেয়ে ভ্যানগাড়ির বইগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্তে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি