লিখিত বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ ছোটন বলেন, শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া মৌজার নির্দিষ্ট খতিয়ানভুক্ত ক্রয়কৃত প্রায় ১৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ করছে রিংকি ও শাহানারা বেগম। তারা বিভিন্ন সময় জমির সীমানা খুটি ভাঙচুরের চেষ্টা করেছেন এবং গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালান। বাঁধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তোফায়েল। এমনকি ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকিও দেন অভিযুক্তরা।
শ্রীবরদীতে ক্রয়কৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে থানায় বানোয়াট অভিযোগ, ক্রেতার প্রতিবাদ
২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের কামারদহ এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দখলচেষ্টা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। ২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার দুপুরে শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ ছোটন মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ ছোটন বলেন, শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া মৌজার নির্দিষ্ট খতিয়ানভুক্ত ক্রয়কৃত প্রায় ১৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ করছে রিংকি ও শাহানারা বেগম। তারা বিভিন্ন সময় জমির সীমানা খুটি ভাঙচুরের চেষ্টা করেছেন এবং গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালান। বাঁধা দিতে গেলে তাদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তোফায়েল। এমনকি ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকিও দেন অভিযুক্তরা।
তিনি আরও বলেন, টাকা দিয়ে জমি কিনে নিয়েছি। তারা পাঁচ বোন আমাদের কাছে জমি বিক্রি করে দিয়ে এবং তাদের মা ও স্থানীয়রা সাথে থেকে জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনদের সবার উপস্থিতিতে তারা পাঁচ বোন জমির সীমানা খুটি গেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ পাঁচ বোনের মধ্যে দুই বোন পরিশোধ করা টাকার চেয়ে আরও বেশি টাকা চেয়ে বসে। সেই দুই বোনকে অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা সীমানা খুটি তুলে ফেলে এবং বিবাদ সৃষ্টি করতে চায়। এ বিষয়ে আমি শ্রীবরদী থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছি। বিষয়টি স্থানীয় সবাই অবগত।
সংবাদ সম্মেলনে জমি বিক্রেতা আঞ্জুমানারা বেগম বলেন, আমরা পাঁচ বোন আমাদের জমি বিক্রি করেছি তোফায়েলদের কাছে। টাকা বুঝে পেয়ে আমাদের জমির সীমানা খুটি গেড়ে দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ আমার দুই বোন বেশি টাকা চাচ্ছে, চুক্তির বাইরে গিয়ে। এতে আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি। একদিন সবাইকে দুনিয়ায় সব সম্পদ ছেড়ে চলে যেতে হবে শূন্য হাতে। তাই বেঈমানী করে বেশি টাকা কেনো চাইবো। আমার দুই বোন ভুল পথে আছে।
একই কথা জানান জমি বিক্রেতা মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ওয়ারিশকৃত জমি আমরা পাঁচ বোন বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু আমার দুই বোন বাড়িতেই থাকে, তারা হঠাৎ অতিরিক্ত টাকা চাচ্ছে। সীমানার খুঁটি নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করে। টাকা নিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া জমিতে আমি ফের টাকার জন্য কেনো যাবো।
অপর আরেক বিক্রেতা মানসুরা বিবি বলেন, টাকা হাতে বুঝিয়ে নিয়ে জমি তোফায়েলদের দিয়েছি। আম্মাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজনদের নিয়ে জমি বুঝিয়ে দিয়েছি এবং সীমানা খুঁটি গেড়ে। আমার দুই বোন কারর প্ররোচনায় পড়ে হয়তো খুঁটি তুলে ফেলতে চায় এবং জমি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি করতে চায়। আমি এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এসময় জমি ক্রেতা তোফায়েলদের আত্মীয়-স্বজন ও জমি বিক্রেতা মানসুরা বিবিরা তিন বোন উপস্থিত ছিলেন। এদিকে অভিযুক্ত শাহানা আক্তার বলেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, তবুও আজ নিজেদের জমিতে নিরাপদ নই। তোফায়েলরা পরিকল্পিতভাবে আমার বৃদ্ধ মা ও আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের কামারদহ এলাকায় জমি সংক্রান্ত জেরে দ্বন্দ্ব এমন একটি অভিযোগ এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য