আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে ধর্ষণ মামলার বাদীর ওপর হামলা করলো আসামী পক্ষ

আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে ধর্ষণ মামলার বাদীর ওপর হামলা করলো আসামী পক্ষ
সর্বমোট পঠিত : 32 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

শেরপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে মামলার বাদী ও কিশোরীর বাবার হামলা চালয়িছে আসামীপক্ষ। এসময় তাদেরকে মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।




মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের ৬ নং চর গ্রামের এক হতদরিদ্র কৃষকের ১৭ বছর বয়সী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ফুসলিয়ে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে একই গ্রামের মো. আজমত আলী ওরফে টেমুর ছেলে মো. শিপন মিয়া ওরফে ফকিরের (২৩) বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ষণের ফলে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত করানো হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে শেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে শিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা করেন।

ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সিআইডিকে নির্দেশ দেন। পরে সিআইডির উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামি শিপন মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পান। মামলায় অভিযোগ গঠন শেষে বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি শিপন মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলায় সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার পথে ৬ নং চর গ্রামে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় মামলার বাদী ও কিশোরীর বাবাকে মারধর করা হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ। তাদের অভিযোগ, এরপর আসামি শিপন মিয়ার আত্মীয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখার কর্মচারী মো. রুহুল আমিন এবং তার ভাই হাবিবুর দ্রুত থানায় যান। সেখানে থানায় অবস্থানরত বাদীপক্ষের লোকজনের সঙ্গে তারা উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার তাদের থানা থেকে বের করে দেন বলে দাবি বাদীপক্ষের।

বাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, পরে মো. রুহুল আমিন ও তার ভাই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামলার বাদীকে মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মামলার বাদীপক্ষ।

তবে বাদীপক্ষের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, আমার ভাতিজাকে বাচানোর চেষ্টা করা স্বাভাবিক। তবে আমি তাদের কোনো ধরনের হুমকি দিইনি। তবে আমি থানায় গিয়ে ছিলাম বেতনের পাসওয়ার্ড দিতে।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোকন চন্দ্র দাস বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি