৩ নেতার স্বজন ও বিএনপি নেতারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বয়স ছিল ১০-১২ বছর। আর মামলার অনেক সাক্ষীদের বয়সও তখন ৭-৮ বছর ছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। অবিলম্বে ওই ৩ জনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
জোড় করে স্বাক্ষর নিয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে- দাবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের
জোড় করে স্বাক্ষর নিয়ে মানবতাবিরোধী মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে- দাবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নকলার ৩ বিএনপি নেতার সাজা বাতিল করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ আগস্ট সোমবার দুপুরে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ৩ নেতাকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত নকলার ৩ বিএনপি নেতা হলেন, বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা, অ্যাডভোকেট একেএম আকরাম হোসেন ও নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের সাবেক প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল মনসুর বলেন, ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম নকলা উপজেলায় ৬০ জন আলবদর ও রাজাকারের তালিকা নিয়ে আসেন। সেই তালিকায় বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান তারা, অ্যাডভোকেট একেএম আকরাম হোসেন ও নকলা হাজী জাল মামুদ কলেজের সাবেক প্রভাষক এসএম আমিনুজ্জামান ফারুকের নাম অর্ন্তভূক্ত ছিল। প্রথমে আমাকে এসপি ফোন করে সাক্ষর দিতে, পরে ডিসি ফোন করে কিস্তু আমি স্বাক্ষর দেয় নাই। এরপরে ততকালীন এমপি বেগম মাতিয়া চৌধুরী সহ নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে জোরপূর্বক চাপ প্রয়োগ করে লিখিত নিয়েছে এবং সাক্ষী নিয়েছে। নকলাতে আমার জানামতে বদর বলতে কেউ ছিলো না।সাবেক মেয়র মোকলেসুর রহমান তাঁরার ১৯৭১ সালে সাটিফিকেট অনুযায়ী বয়স বয়স ছিলো ১০ বছর ৪ মাস। বিএনপি নেতা একে এম আকরাম হোসেন ও এস এম ফারুক এদের বয়সও দশ বছরের নিচে ছিলো। এমনকি ওই ৬০ জনের তালিকার সত্যতারও ভিত্তি নেই। পরবর্তীতে ওই ৩ জনের নাম যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা যুক্ত করা হয়, যা ভিত্তিহীন। তারা ৩ জনই ওই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এতে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ও সামজিক মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। সকলেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। কেউ রাজাকার বা বদর বাহিনীর সদস্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনোই নিরপরাধ কোন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা মতাদর্শের কারণে হয়রানী করার শিক্ষা দেয় না। তিনি ওই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
৩ নেতার স্বজন ও বিএনপি নেতারা জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের বয়স ছিল ১০-১২ বছর। আর মামলার অনেক সাক্ষীদের বয়সও তখন ৭-৮ বছর ছিল। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাদের সাজা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। অবিলম্বে ওই ৩ জনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মো. আব্দুল হক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন বাদশা, উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মহিউদ্দিন মুক্তার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এনামুল হক রিপন, নকলা পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুরাদুজ্জামান মাসুম, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক ছানোয়ার হোসেন অভি, মোখলেছুর রহমান তারার ছেলে মো. তানিম, একেএম আকরাম হোসেনের ছেলে রায়হান হোসেন রিবু, ধুকুড়িয়া এজেড টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল আলমসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য