আদালত ২১ জুন আটক তিন আসামীর মধ্যে দুইজনকে একদিন ও একজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা। তিনি আরো বলেন আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
একমাত্র সন্তানের খুনিদের ফাঁসি চান সায়িবের বাবা মা : বিচারের দাবিতে মানব বন্ধন, মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ে ন্যস্ত
আসলে সত্যি আমার কথা বলার মতো ভাষা নাই। আমার একমাত্র বুকের মানিককে ফিরে পেতে চাই। যারা আমার সন্তানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে যারা মেরেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে খুনিদের শাস্তি চাই। এমন আকুতি জানিয়েছেন কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসীদের মারপিটে নিহত শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আল মুহতাসিম সায়িব (১৭) এর মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুলতানা বেগম।
আল মুহতাসিম সায়িবের খুনিদের দ্রুত বিচার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ ২১ জুন দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসক অফিসে সামনে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী এবং ছাত্ররা।
এসময় সায়িবের বাবা সাবেক এনজিও কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, আমার ছেলের আসল খুনিরা এখনো ধরা পড়ে নাই। আমি তাদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে খুনিদের শাস্তি চাই।
শেরপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুয়েল রানা ঘোষণা দেন দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনভাবেই সায়িবের খুনিদের ছাড় দিতে দিবোনা। পুলিশ যেন আসামি পক্ষের কোন তদবির না শুনে এ দাবি জানাচ্ছি।
শেরপুরের পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা শেরপুরের অনেক বড়বড় ঘটনার অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনেছি। সায়িবের খুনিদেরও আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পুলিশ তার পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে। কোন অপরাধীকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আদালতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কর্মকাণ্ড না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য ঈদের পর ২৯ মে শেরপুর শহরের নওহাটার বিএমরোডে ঘুরতে গেলে ছবি ওঠানো নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিহ্নিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা আল মুহতাসিম সায়িব (১৭)কে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করে। পরে তাকে প্রথমে শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮জুন বিকেলে মারা যায় বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান সায়িব। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় ১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সায়িবের মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রেবেকা সুলতানা। পরে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
আদালত ২১ জুন আটক তিন আসামীর মধ্যে দুইজনকে একদিন ও একজনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা। তিনি আরো বলেন আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
মন্তব্য