জামালপুরে অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা

সর্বমোট পঠিত : 60 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইউসূফ আলী বলেন, ‘আমাদের যে কেন্দ্রগুলো আছে, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাসহ ভোটারেরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। সে কার্যক্রম এরইমধ্যে আমরা শুরু করেছি। মাঠে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটালিয়ান, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত থাকবেন। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে জামালপুরে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হবে।’

জামালপুরে মোট ভোট কেন্দ্রের ৫৩ দশমিক ছয় শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৯ দশমিক ছয় শতাংশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৩৪ শতাংশ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলো জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাঁদের। আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

জামালপুরের সাত উপজেলা, আট পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ৬২৩টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২১২টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ২৮৯টি। জেলাতে সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে সদর-৫ আসনে, মোট ১৬১টি। আর সবচেয়ে কম ভোট কেন্দ্র জামালপুর-৪ সরিষাবাড়ী আসনে, মাত্র ৮৮টি। ঝুঁকির দিক থেকেও এগিয়ে সদর আসন। এখানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি।

এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীরা। আর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও দলটির নেতা-কর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়ছে। এতে বৃদ্ধি পেয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে রাজনৈতিক নেতারা।

রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, ‘আমরা মনে করি তাঁদের হাতে যে অস্ত্র আছে এই অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামতে পারে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য।’

জামালপুর-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ‘আমরা সবসময় একটি কথা বলে থাকি। জামায়াতে ইসলাম এক সময় গুপ্ত রাজনীতি করেছে। তাঁদের যদি গুপ্ত কোনো পরিকল্পনা থাকে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে শঙ্কিত বা শঙ্কা থাকতে পারে।’

জামালপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে তাঁদের পরাজয় যে নিশ্চিত এটা তারা নিজেরা উপলব্ধি করতে পারছে। কাজেই এই পরাজয়ের ঘানি সহ্য করার মতো ধৈর্য শক্তি তাদের মধ্যে নাই। এ কারণে অতীতে যারা একই কাজ করেছেন ফ্যাসিবাদী কায়দায়। ওই একই কাজ আমাদের বন্ধু প্রতিম সংগঠন করার চেষ্টা করছে একই কায়দায়। এটি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।

তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলগুলো। আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন।

জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘এবার একটা জিনিস ভেরি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। অস্ত্রবাজি করা, কেন্দ্র দখল করা এগুলো আমাদের ভুলে যেতে হবে। একদম সোজা হিসাব এ ধরনের কেউ যদি চিন্তা-ভাবনা করে সেটা বাজে দুঃস্বপ্ন হবে। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছি।’

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসক মো. ইউসূফ আলী বলেন, ‘আমাদের যে কেন্দ্রগুলো আছে, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাসহ ভোটারেরা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন। সে কার্যক্রম এরইমধ্যে আমরা শুরু করেছি। মাঠে পর্যাপ্ত সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটালিয়ান, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত থাকবেন। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে জামালপুরে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হবে।’

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি