কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম, ক্রাশার মিল ও বাড়িতে অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মধ্যরাতে কোম্পানীগঞ্জের আদর্শ গ্রামে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় সাদা পাথর লুটে জড়িত থাকার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রও পাওয়া যায়।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় যৌথবাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ৪
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ থেকে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। রোববার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ওসি জানান, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রাম, ক্রাশার মিল ও বাড়িতে অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার মধ্যরাতে কোম্পানীগঞ্জের আদর্শ গ্রামে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। এ সময় সাদা পাথর লুটে জড়িত থাকার ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্রও পাওয়া যায়।
উজায়ের আল মাহমুদ আদনান আরও জানান, রোববার সকালে উপজেলার সামনে দিয়ে ভলগেটে করে ক্রাশ পাথর যাচ্ছিল। সে সময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তা আটক করেন। সে বিষয়েও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) পাথর লুটের ঘটনায় দেড় হাজার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব।
মামলার এজাহারে বলা হয়, কিছু দুষ্কৃতিকারীরা গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী সময়ে গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার পাথর লুটপাট করেছে। যা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিনে জাফলং ও সাদা পাথর থেকে লুট হওয়া পাথরের মধ্যে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ সিলেটের জৈন্তাপুর থানাধীন আসাম পাড়া এলাকা থেকে বিপুল পাথর উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-৯ এর টহল টিম, সাদা পোশাকধারী সদস্য এবং সিলেট জেলা প্রশাসনের সহায়তায় একটি যৌথ আভিযানিক দল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আসাম পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ৭ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে। অভিযান অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত চলবে বলেও জানায় প্রশাসন।
এর আগে, সিলেটের দুই পর্যটনকেন্দ্র কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর ও গোয়াইনঘাটের জাফলং থেকে পাথর লুটের ঘটনা ঘটে। সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা এ ঘটনায় হাইকোর্ট পাথর উদ্ধার করে যথাস্থানে প্রতিস্থাপন ও লুটকারীদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। এর পর সিলেটসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র্যাব, পুলিশসহ যৌথবাহিনী।
মন্তব্য