ব্রাজিলকে পেনাল্টি না দেওয়া ঠিক হয়েছে? কলম্বিয়ার গোল বাতিল নিয়ে বিতর্ক আছে?

সর্বমোট পঠিত : 33 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

যারা গ্রুপের সেরা হবে, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পাবে পানামাকে। যারা দ্বিতীয় হবে, তারা পাবে উরুগুয়েকে। আকাশ আর পাতালে তফাৎ। স্বাভাবিকভাবেই পানামাকেই পেতে চাইবে যেকোনো দল। তবে সেজন্য ব্রাজিলকে আজ কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিততে হতো। কিন্তু শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে কলম্বিয়ার সামনে নিজেদের খুব একটা মেলে ধরতে পারেনি ব্রাজিল।


যারা গ্রুপের সেরা হবে, তারা কোয়ার্টার ফাইনালে পাবে পানামাকে। যারা দ্বিতীয় হবে, তারা পাবে উরুগুয়েকে। আকাশ আর পাতালে তফাৎ। স্বাভাবিকভাবেই পানামাকেই পেতে চাইবে যেকোনো দল। তবে সেজন্য ব্রাজিলকে আজ কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিততে হতো। কিন্তু শুরুতে এগিয়ে গেলেও পরে কলম্বিয়ার সামনে নিজেদের খুব একটা মেলে ধরতে পারেনি ব্রাজিল।

শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছেন ভিনিসিয়ুস, রদ্রিগোরা। এতে কলম্বিয়ার পেছনে থেকে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে এবারের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল ব্রাজিল। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের সামনেই পড়তে হচ্ছে দরিফাউ জুনিয়রের দলকে।

মরার ওপর খাঁড়ার ঘা, আজ ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই হামেস রদ্রিগেসকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখায় উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকছেন ভিনিসিয়ুস। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় এ শাস্তি তাঁর।

তা উরুগুয়ের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসকে কতটা মিস করবে ব্রাজিল, সে নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে আজ ভিনিকে ঘিরেই একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছে ব্রাজিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে কলম্বিয়া বক্সে ভিনির পায়ে পা লাগে কলম্বিয়ার রাইটব্যাক মুনিয়োসের, পড়ে যান ভিনিসিয়ুস। বল ভিনির পা থেকে সরে একটু বাঁ দিকে চলে যায়। রেফারির পর ভিএআরের সিদ্ধান্ত আসে, এটা পেনাল্টি নয়।

দৃশ্যত, রেফারির মনে হয়েছে, এটা ফাউল নয়, খেলার স্বাভাবিক গতিতেই হয়েছে সবকিছু। ব্রাজিল স্বাভাবিকভাবেই মানেনি। এমনকি ম্যাচ শেষের পরও রেফারির কাছে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের অভিযোগের মূল বিষয় ওই পেনাল্টিই ছিল বলে জানাচ্ছে অনেক সংবাদমাধ্যম।

কিন্তু সিদ্ধান্তটা কি সঠিক ছিল? বিতর্ক আছে এ নিয়ে। সাদা চোখে রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, বলের সঙ্গে কোনো সংস্পর্শ ছিল না মুনিয়োসের। সে হিসেবে ব্রাজিলের পেনাল্টি প্রাপ্য ছিল।

স্প্যানিশ লিগ বিষয়ক খবরাখবর ইংরেজিতে সরবরাহ করা ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) একাউন্ট ‘লা লিগা এক্সট্রা’ লিখেছে, ‘রেয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুসকে বক্সে ফাউল করা হয়েছে, অথচ পেনাল্টি দেওয়া হয়নি!’ পাশে বিস্ময়সূচক ইমোজি।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোএস্পোর্তে-তে ‘গ্রুপো গ্লোবো’-র রেফারিং বিশ্লেষক পিসি অলিভেইরা বলেছেন, ‘ভিনি জুনিয়রের পায়ে বল লেগেছে। মুনিয়োসের ট্যাকলটা ছিল বেপরোয়া, দেরিতে হয়েছে ট্যাকলটা। পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি এখানে। এটা (মুনিয়োসের ট্যাকল) একটা বেপরোয়া কাজ ছিল, ভিএআরের উচিত ছিল রেফারিকে আরেকবার দেখতে বলা। ব্রাজিলের ক্ষতি হয়েছে এতে।’

ব্রাজিল কোচ দরিফাউ জুনিয়রের বিশ্লেষণ, ‘আমরা তখন ১-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম, এরপর খেলার ওই অংশটা আমাদের দ্বিতীয় গোল এনে দিতে পারত, কিন্তু ওই সিদ্ধান্তটা (পেনাল্টি না দেওয়া) আমাদের খেলাটাকে ভিন্নভাবে সামলে নেওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।… ওই মুহূর্তে স্কোরটা ২-০ হতে পারত, আর আমাদের যে দল আছে, তাতে সবকিছু আমরা যেভাবে চাই সেভাবে এখন পর্যন্ত না হলেও, খেলাটা তখন ভিন্ন হতো। এরপরই আমরা গোল খেয়ে গেলাম। আমার চোখে, ওটাই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।’

রেফারি আর ভিএআর ছাড়া বাকি সবার কাছেও ওটা পেনাল্টি বলে দাবি করলেন ব্রাজিল কোচ, ‘পুরো স্টেডিয়ামে শুধু তিনি (রেফারি) আর ভিএআর টিম পেনাল্টিটা দেখতে পাননি। সত্যিটা বললে, ব্রাজিলের ক্ষতি হয়েছে।… স্কোরলাইনে ব্যবধানটা বড় থাকলে খেলাটার ধরনই অন্যরকম হতো, কলম্বিয়াকে তখন আরেকটু রক্ষণ ছেড়ে বেরোতে হতো।’

তবে ইংলিশ দৈনিক গার্ডিয়ান ম্যাচের প্রতিবেদনে লিখেছে, বল মুনিয়োসের পায়ে কিছুটা লেগেছে। আবার অনেকে বলছেন, ভিনিসিয়ুসের পায়ে মুনিয়োসের পা সেভাবে লাগেনি, অর্থাৎ ভিনিসিয়ুস ডাইভ দিয়েছেন বলে রায় তাদের।

কলম্বিয়ার গোল বাতিল

ব্রাজিলের ওই পেনাল্টির আগেই কলম্বিয়ার গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ম্যাচের ১১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে রাফিনিয়ার দারুণ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল, এর ৮ মিনিট পরই কলম্বিয়া বল জালে জড়ায়। হামেস রদ্রিগেসের ফ্রি-কিকে হেড করেছিলেন দাভিনসন সানচেস। কিন্তু বল জালে জড়াতেই দেখা যায়, সহকারি রেফারি অফসাইডের পতাকা তুলে ধরেছেন। ভিএআরও বিশ্লেষণ করে জানায়, অফসাইডের কারণে গোল বাতিল।

কিন্তু এ নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রথমত, এবারের কোপা আমেরিকার সম্প্রচারবিষয়ক দূর্বলতার কারণে ভিএআরে অফসাইড-সংক্রান্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে অনেক দূর থেকে নেওয়া ভিডিও দেখে। আজ যেমন, গোলপোস্টের পেছন থেকেও ধারণ করা ভিডিও দেখে অফসাইড নির্ধারণের মতো হাস্যকর চেষ্টাও দেখা গেল। এর আগে গতকাল উরুগুয়ে-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচেও দূর থেকে সম্প্রচার ও অফসাইড নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়।

দ্বিতীয় যুক্তি, দাভিনসন সানচেসের অবস্থান। ভিএআরে বিশ্লেষণের সময় কলম্বিয়ার যে শেষ খেলোয়াড়কে ধরে রেখা টানা হয়, তিনি দাভিনসন সানচেস নন, স্ট্রাইকার জন কর্দোবা! তিনি অফসাইডেই ছিলেন, তাঁর পাশের খেলোয়াড়ও অফসাইডে ছিলেন, কিন্তু তাঁদের দুজনের তো বলের সঙ্গে সংযোগ হয়নি। বলে মাথা লাগিয়েছেন সানচেস – ক্রস করার সময় বল হামেসের পা থেকে বের হওয়ার সময়ে দাভিনসন সানচেস অফসাইড ছিলেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা, আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম তে ই সে স্পোর্ত, সাংবাদিক হুয়ান আরাঙ্গোসহ অনেকের চোখে, সানচেস অফসাইড ছিলেন না।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি