তিন বছর পর উদঘাটন হলো নকলার অটোভ্যান চালক আঃ মন্নাছ হত্যার রহস্য: গ্রেপ্তার-৩ 

তিন বছর পর উদঘাটন হলো নকলার অটোভ্যান চালক আঃ মন্নাছ হত্যার রহস্য: গ্রেপ্তার-৩ 
সর্বমোট পঠিত : 12 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

গ্রেপ্তাককৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিত জানায়, আব্দুল মন্নাছকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর তাকে কচুরি পানার নীচে পুতে রাখা হয়। পরে অটোটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে ভাংগারি দোকানে অটো ৮ হাজার ও ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।   

শেরপুরের নকলার চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক আঃ মন্নাছ হত্যার তিন বছর পর উদঘাটন হলো হত্যার রহস্য। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গততিনদিনে নকলার পৃথকস্থান থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, নকলা উপজেলার পাঠাকাটার নওয়াব আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩০), ভূরদীর রমজান আলীর ছেলে মোঃ শাহীন (৪০), টালকি উত্তরপাড়ার ছায়েদুল ইসলামের ছেলে মোঃ স্বপন (৪২)। 

গ্রেপ্তাককৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিত জানায়, আব্দুল মন্নাছকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর তাকে কচুরি পানার নীচে পুতে রাখা হয়। পরে অটোটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে ভাংগারি দোকানে অটো ৮ হাজার ও ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।   
  
বিষয়টি ১৯ আগষ্ট দুপুরে এক প্রেসব্রিফিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।  

পিবিআই জানায়, শেরপুরের নকলা উপজেলার পশ্চিম টালকী গ্রামের মৃত হাবিল উদ্দিনের ছেলে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান চালক  আঃ মন্নাছ (৪৩) বিগত ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভাড়া নেয়া একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। নিখোঁরে দুইদিন পর ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে এগারোটার সময় নকলা মধ্য পাঠাকাটার বাঘমারি বিলে কচুরী পানার নীচে পুতা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নকলা থানার পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে ময়না তদন্ত করে। এ ঘটনায় একইদিন আঃ মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।  
পরবর্তীতে নকলা থানা পুলিশ সন্দেহজনক ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআই, জামালপুর অফিসকে।   এঘনায় গত ১৩ আগষ্ট আসামী মোস্তাকিমকে নকলা থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেয়া তথ্যে গত ১৭ ও ১৮ আগষ্ট নকলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই আসামী ভূরদীর রমজান আলীর ছেলে মোঃ শাহীন (৪০), টালকি উত্তরপাড়ার ছায়েদুল ইসলামের ছেলে মোঃ স্বপন (৪২)কে গ্রেপ্তার করে। 

গ্রেপ্তাককৃতরা জানায় পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক, ঘটনার পূর্বেই আসামী মোস্তাকিম ওরফে মোস্তাকিন, স্বপন, শাহীন ডিসিস্ট আঃ মন্নাছকে হত্যা করে তার ব্যাটারী চালিত ভ্যানগাড়ীটি আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর আসামী স্বপন তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক আঃ মন্নাছকে মেয়ে মানুষের কথা বলে ভ্যানগাড়ীসহ তাকে নিয়ে পাঠাকাটা বাজারে যায়। সেখানে পূর্ব হতেই উপস্থিত থাকা মোস্তাকিম ওরফে মোস্তাকিন ও শাহীনকে নিয়ে রাত অনুমান ১০ টার দিকে বাঘমারী বিলের কাছে পৌছে। সেখানে পৌছার সাথে সাথে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আসামী মোস্তাকিম  ডিসিস্ট আঃ মন্নাছের ঘাড় পেচিয়ে গলা চেপে ধরে এবং শাহীন ও স্বপন মুন্নাছকে এলোপাথাড়ী কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকাবস্থায় আঃ মন্নাছ মারাযায়। পরে তার মরদেহ কাদা ও কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে ভ্যানগাড়ীটি নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে ভ্যানগাড়ীটি ভেঙ্গে লোহার বডি এবং ব্যাটারী রাস্তার পাশে ঝোপে রেখে দেয়। পরেরদিন আসামী মোস্তাকিম এবং শাহীন ভাঙ্গারী ক্রয় করা হকার নামের একজনের কাছে ভ্যানগাড়ীর লোহার বডির ভাঙ্গা অংশ আট হাজার টাকা ভ্যানগাড়ীর ৪টি ব্যাটারী নকলা বাজারের খন্দকার গোলাম কাওছার লিজনের মালিকানাধীণ খন্দকার সাইকেল স্টোর এন্ড ব্যাটারী হাউজে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে।
  
পিবিআই শেরপুর-জামালপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, “মামলার ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক। ডিসিস্টের ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়িটি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্যানচালক আঃ মন্নাছকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর আসামীরা মন্নাছের মৃতদেহ  গোপন করে এবং ভ্যানগাড়িটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তার পেশাদারিত্ব, তথ্য-প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং সার্বিক তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়।  তিনি বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে, অপরাধ সংঘটনের পর দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও অপরাধীরা আইনের হাত থেকে রেহাই পায়না। ন্যায় বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে পিবিআই সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। 

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি