মহারশি নদীভাঙন ঠেকাতে নদী পুুনঃখনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি

সর্বমোট পঠিত : 6 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এ বিষয়ে সংসদে একাধিকবার কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজের অনুমোদন হয়ে যাবে।

ভারতের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে প্রতিবছর শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভাঙন, পাহাড়ি ঢল এবং নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার বন্যা হয়। তাই মহারশি নদীর ভাঙনে সৃষ্ট বন্যায় গত এক দশকে বাড়ি-ঘর হারিয়েছে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক পরিবার। স্থানীয়রা, মহারশি নদী পুনঃখনন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা েেগছে, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পশ্চিম ও দক্ষিণ গারো পাহাড়ি অঞ্চল থেকে মহারশি নদীটি প্রবাহিত হয়ে এ দেশের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারোকোনা এলাকার ১ হাজার ১০৮ নম্বর পিলারের পাশ হয়ে জিরো পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পাগলারমুখ এলাকায় মালিঝি নদীতে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড  থেকে দেওয়া নদীটির পরিচিতি নম্বর ৬৮ এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭ কিলোমিটার ও গড় প্রশস্ততা ৫৭ মিটার।

এলাকাবাী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরই বর্ষাকালে মহারশি নদীর গতিপথে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া  ও ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের কমপক্ষে দশটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। গত ২০২৪ সালের অক্টোবর ও ২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাহাড়ি ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে মহারশি নদীর উভয় তীরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, পুকুর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এতোসব দুর্ভোগ লাঘবে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’। পরে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, মানবাধিকার কর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ৩ হাজার ২৭৩ জন নাগরিকের স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি তৎকালীন জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর জমা দেওয়া হয়।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপিটি গত ২৩ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রণের জন্যে পাঠানো হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। 

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহারশি নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসন এবং নদী পুনঃখননের জন্য গত ২৫ নভেম্বর শেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সুদীপ্ত চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে প্রায় ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় কারিগরি কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসনের জন্য আনুমানিক ২২ কোটি ২৯ লাখ ২ হাজার টাকা এবং ১৭ কিলোমিটার মহারশি নদী পুনঃখননের জন্য প্রায় ২৬ কোটি ৩৫ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে গঠিত কারিগরি কমিটি চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ অবস্থায় মহারশি নদীর দুই তীরে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন শাখা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

খৈলকুড়া এলাকার ব্যবসায়ী মো. বিনামিন বলেন, এ নদীর বাঁধ ভেঙে গত ২০২৪ সালের অক্টোবরে কয়েক মিনিটেই আমার চোখের সামনে তিলে তিলে গড়া মুরগীর খামার ও বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে ওই সময় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়, এখন পুঁজির অভাবে আর ব্যবসা দাঁড় করাতে পারছি না। এ পরিস্থির স্বীকার যেন আর কেই না হন, তাই সমস্যা সমাধানে দ্রট্টু ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ঝিনাইগাতী বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের কোষাধ্যক্ষ মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, আমাদের মহারশি নদীর বাঁধ, ভেঙে প্রতিবছর ঝিনাইগাতী সদরবাজারসহ আশপাশের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে নদীর দুই তীরে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী পুনঃখননের বিকল্প নেই। মহারশি নদীর দুই পাড়ে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের  জোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী এ নেতা।  
    
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, মহারশি নদীর দুই তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনর্বাসন এবং নদী পুনঃখননের নকশা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। নকশা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণের পর একনেক সভায় অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, এ বিষয়ে সংসদে একাধিকবার কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ কাজের অনুমোদন হয়ে যাবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি