নির্বাচিত হলে বন ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যসহ দারিদ্র্যমুক্ত মডেল জনপদ গড়ব: রুবেল

সর্বমোট পঠিত : 29 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

জনসভায় মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, "সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী এলাকার মানুষের প্রধান অভিশাপ হলো হাতি-মানুষের দীর্ঘদিনের সংঘাত। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে এই সংঘাত নিরসনে স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টি এবং বনাঞ্চল রক্ষা করাই হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।"

স্থগিত হয়ে যাওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বিশাল জনসমুদ্রের উপস্থিতিতে নিজের শেষ নির্বাচনী জনসভা সম্পন্ন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক তিনবারের সফল সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপেজলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত এই নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সীমান্তবর্তী এই জনপদকে ঘিরে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আধুনিক জনপদ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জনসভায় মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, "সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী এলাকার মানুষের প্রধান অভিশাপ হলো হাতি-মানুষের দীর্ঘদিনের সংঘাত। ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচিত হলে এই সংঘাত নিরসনে স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়ারণ্য সৃষ্টি এবং বনাঞ্চল রক্ষা করাই হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।"

তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দূর করা হবে এবং মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নিজের প্রতিকূল সময়ের স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, "বিগত ১৭টি বছর আমাকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে, তবুও হাতির আক্রমণে নিহতদের পাশে দাঁড়ানো, করোনা মহামারি, বন্যা কিংবা সাধারণ মানুষের বিপদে আমি সবার পাশে ছিলাম এবং রাজপথ ও ছাড়িনি আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। জানাজা থেকে শুরু করে বিয়ের দাওয়াত—সবখানেই আমি আপনাদের পাশে ছিলাম। আমি উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো আগন্তুক নই। বরং আপনাদের সুখ-দুঃখের পরীক্ষিত সাথী।"

এ সময় তিনি সকল মতভেদ ভুলে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি প্রতিপক্ষ জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে বলেন, জামায়াত এখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এবং দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট কেনার পাঁয়তারা করছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী দুই রাত পাড়া-মহল্লায় সজাগ পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা বন উজাড়ের সঙ্গে লিপ্ত হয়, তবে তাকে ও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দল থেকে বহিষ্কার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে সোপর্দ করা হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহজাহান আকন্দের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক তিনবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির ত্যাগী নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিলসহকারে যোগ দিলে স্টেডিয়াম মাঠ ও সংলগ্ন সড়ক ও জনাকীর্ণ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, করোনা মহামারী, বন্যা বন্যহাতির আক্রমনে নিহত পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। আমার নেতা বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ইতোমধ্যেই ফেমিলি কার্ড, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা সুদসমেত ঋণ মওকুফসহ কৃষক কার্ড চালু মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানি ভাতা ও সনাতনী ধর্ম ও খৃষ্টান ধর্মের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে।

উপস্থিত জনতা করতালির মাধ্যমে সাবেক এমপি রুবেলের ডিজিটাল ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘মডেল জনপদ’ গড়ার স্বপ্নকে সমর্থন জানান এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের কথা জানিয়ে করতালির পর করতালি দিতে থাকেন। উল্লেখ্য যে, আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ আসনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই প্রশাসন নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি