একাত্তরের স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্বমোট পঠিত : 27 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক লেজিসলেটিভ ফ্রড বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।’

একাত্তরের স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না বলে সংসদে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। চব্বিশের জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, একাত্তরের স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।’

এ সময় তিনি আরও জানান, সংবিধান কখনো সংস্কার হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা সংশোধন হয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য সব দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক লেজিসলেটিভ ফ্রড বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতিমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস, যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংবিধানে “মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।’

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে; বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয়।’

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি