ঝিনাইগাতী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় মাঠে পানি

সর্বমোট পঠিত : 27 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ‘ঝিনাইগাতী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ মাঠের পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, কর্মচারী সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয় খেলাধুলা থেকে; বিঘিœত হচ্ছে সৃজনশীল কাজ ও প্রতিদিনের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি)। এই সমস্যা সমাধানে মাঠটিতে মাটি ভরাট করে উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে ৫৬ শতাংশ জায়গা নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি পরিত্যক্ত ভবনসহ চারটি ভবন রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২৭। শিক্ষক রয়েছেন নয়জন। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতি বছরই সমাপনী পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে থাকে। পিছিয়ে নেই খেলাধুলায়ও। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠসহ দুই-তিনটি শ্রেণিকক্ষে পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া করা যায় না।

বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরে সামান্য বৃষ্টিপাত হলে বিদ্যালয়ের বিদ্যালয় মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ওই পানি মাড়িয়েই বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী পানিতে দৌড়া-দৌড়ি করছে। সকাল দশটার দিকে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে পানির মধ্যে বেঞ্চে বসে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জুনাইদ বলে, মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত খেলাধুলা করা যায় না। আজকে পানি মাড়িয়ে ক্লাসে প্রবেশ করেছি। আবার পানির মধ্যেই বেঞ্চে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। ক্লাস রুমে পানি থাকায় মশার পরিমাণও বেশি। এসময়ে একটু বৃষ্টি হলেই একটি ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। তা ছাড়া বিদ্যালয় থেকে রাস্তায়ও যাওয়া যায় না।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. জামাল মিয়া বলেন, উপজেলা সদরের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি; অথচ এ বিদ্যালয়ে একটি আধুনিক ভবন নেই। প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলেই সামান্য বৃষ্টিপাতে মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম বলেন, পানিনিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। এ কারণে মাঠটিতে জলাবদ্ধতা লেগেই থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে মাঠে পানি বেড়ে যায়। বিদ্যালয়টিতে একটি ভবনে অফিস কক্ষ এবং অন্যগুলোতে শ্রেণিকক্ষ আছে। জলাবদ্ধতার কারণে এক ভবন থেকে অন্য ভবনে আসা-যাওয়া করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের বেশ বেগ পেতে হয়। শিক্ষার্থীরা এই সময়টাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। পানি বাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। এ কারণে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কম থাকে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানিয়ে কিংবা লিখিত আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আবার মাঠে মাটি ভরাট করা হলে, মাঠের চেয়ে শ্রেণি কক্ষের মেঝে একেবারে নিচু হয়ে যাবে। এতে বৃষ্টির পানি শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করবে। তাই বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফারহানা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটসহ জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্যে বরাদ্দ এসেছে। জরুরি ভিত্তিতে কাজের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতাসহ মাঠ ভরাটের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি