বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক বলেন, কানের পেছন থেকে শুরু হয়, সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাচ্চা খেতে চায় না, বমি করে। হাম জটিল রোগে রুপান্তরিত হতে পারে। হাম হলে কেউ নিজেরা নিজেরা চিকিৎসা করবেন না।
অধিকাংশ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, উপসর্গ মিললেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ
হাম ছড়িয়ে পড়েছে অধিকাংশ জেলায়। প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে নতুন শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের এ সময়ে শিশুর সুরক্ষায় অভিভাবকরা সচেতন না হলে মোকাবিলা করা কঠিন হবে। যারা এখনও হামের টিকা নেয়নি তাদেরকে আগামী ক্যাম্পেইনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৮ মার্চ পর্যন্ত সারা দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭৮ জন। যদিও জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোতে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি।
ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালীর হাসপাতালগুলোতে শতাধিক হামের রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া, সংক্রমণ ছড়িয়েছে কুমিল্লা, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, মাগুড়াসহ অনেক জেলায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাস। নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাস না থাকায় সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক বলেন, কানের পেছন থেকে শুরু হয়, সারা গায়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাচ্চা খেতে চায় না, বমি করে। হাম জটিল রোগে রুপান্তরিত হতে পারে। হাম হলে কেউ নিজেরা নিজেরা চিকিৎসা করবেন না।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. এআরএম সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর যদি জ্বর, সর্দিকাশি বা গায়ে র্যাশ দেখা যায়, তাহলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রোগীর সংখ্যা বাড়লেও নানা সীমাবদ্ধতায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা। শিশুদের লোকসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ডা. রিয়াজ মোবারক বলেন, খেলাধুলা বা অনুষ্ঠানে যেখানে ঝুঁকি আছে সেখানে বাচ্চাকে নেওয়া যাবে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতি চার বছর পরপর একটি বিশেষ হামের টিকা কর্মসূচি চালানো হয়। সবশেষ ২০২০ সালে এমন ক্যাম্পেইন হলেও ২০২৪ সালে হয়নি।
মন্তব্য