মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডেপুটি ম্যানেজার এস এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এটি সৃষ্টি করছে। আসলে আমাদের মজুত পর্যাপ্ত আছে। প্রতিদিনই আমরা তেল সরবরাহ করছি।’
জ্বালানি পরিস্থিতি: শঙ্কা এখন রূপ নিয়েছে ভোগান্তিতে
জ্বালানি সংকটের গুঞ্জনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সীমিত পরিমাণে পেট্রল ও অকটেন পাচ্ছেন। পর্যাপ্ত মজুত থাকার ঘোষণা সত্ত্বেও অনেক পাম্পে তেলের সরবরাহ ছিল সীমিত। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
নীলক্ষেত থেকে রমনা, পরিবাগ হয়ে তেজগাঁও আসার পথে জ্বালানি তেলের সন্ধানে মোট পাঁচটি পেট্রল পাম্প ঘুরেছেন সুমন। কোনোটিতে তেল নেই, কোনোটিতে দীর্ঘ লাইন, আবার কোনোটিতে বলা হচ্ছে পরে আসতে।
সুমন বলেন, ‘অনেক পাম্পে তেল নেই, ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। আমরা তো ঘুরে ঘুরে দেখলাম যে তেল নেই। কিছু কিছু পাম্পে তেল আছে।’
সোমবার সকাল থেকেই সুমনের মতো এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর অনেকে। দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে দুই লিটারের বেশি তেল মিলছে না। দিনের কাজ শেষে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল কিনতে হবে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
একজন ব্যক্তিগত গাড়িচালক বলেন, ‘১২০০ টাকার তেল নিলে লাইনেই ৬০০ টাকার তেল পুড়ে যায়। আমাদের দিচ্ছে ১০ লিটার, অথচ সরকার বলছে সংকট নেই। এটা কেন?’
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত ট্রাস্ট এনার্জির পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যেভাবে দেওয়া উচিত, যেভাবে দেওয়া প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই দিচ্ছি। সরকারের রেশন নীতি অনুসরণ করেই তেল দেওয়া হচ্ছে।’
মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডেপুটি ম্যানেজার এস এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘অনেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এটি সৃষ্টি করছে। আসলে আমাদের মজুত পর্যাপ্ত আছে। প্রতিদিনই আমরা তেল সরবরাহ করছি।’
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তদারকি চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য