টিসিবির ট্রাকসেলে ৯০ জন ভোক্তার পণ্য গায়েবের অভিযোগ

সর্বমোট পঠিত : 33 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরসভা চত্বরে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ট্রাক সেল কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত পণ্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন ভোক্তার জন্য নির্ধারিত পণ্য ঘাটতির ঘটনা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) বিকেলের দিকে নালিতাবাড়ী পৌরসভা চত্বরে টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন মেসার্স প্যারাডাইস এন্টারপ্রাইজ নামের এক ডিলার। এদিন প্রায় ৪০০ জন ভোক্তার জন্য পণ্য বরাদ্দ ছিল।

পণ্য বিতরণের সময় স্থানীয় ভোক্তারা অনিয়মের অভিযোগ তুললে ট্রাকে থাকা পণ্যের হিসাব যাচাই করা হয়। যাচাই–বাছাইয়ে দেখা যায়, প্রায় ৯০ জন ভোক্তার জন্য বরাদ্দকৃত পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। এতে অপেক্ষমাণ ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান। তিনি ট্রাকে থাকা কয়েকটি খালি তেলের কার্টন উদ্ধার করেন এবং বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্তের নির্দেশ দেন।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য বিতরণের দায়িত্বে থাকা কিছু ডিলার ও পৌরসভার অসাধু কর্মচারীরা অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দকৃত পণ্য সরিয়ে ফেলছেন।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন ভোক্তার পণ্য উধাও হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই টিসিবির পণ্য বিতরণে এমন অনিয়ম হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিতরণের দায়িত্বে থাকা মেসার্স প্যারাডাইস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার বলেন, পণ্য কম নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না। পণ্য কম পড়েছে শুনে তিনি আরেকটি ট্রাকে করে পণ্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

বিতরণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টিসিবির পণ্য বিতরণের বিষয়টি আমাকে ডিলার বা কেউ জানায়নি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শেরপুর সম্মিলিত নাগরিক উদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, এই কার্যক্রমে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানাচ্ছি। সাধারণ ভোক্তার অধিকার হননের সাহস কোথা হতে পায়। যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে, সেহেতু আইনিভাবেই এর সমাধান করতে হবে। প্রশাসনকে আরও সজাগ ও সাহসিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি