অমর একুশে বইমেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সর্বমোট পঠিত : 38 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘সামনে ঈদ, এ সময় বাজেটের সিংহভাগই চলে যায় মানুষের পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে মেলার প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না। পাঠকশূন্য মেলায় স্টল নেওয়া এবং জেনেশুনে বিষ পান করা একই কথা।’

ঈদের পর বইমেলা চান ২৬২ জন প্রকাশক। ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত না জানালে বইমেলায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।

এ ছাড়া স্টল ও প্যাভিলিয়ন ভাড়া মওকুফ, সরকারি খরচে স্টলের অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থী পাঠকদের জন্য সরকারি ‘বই-ভাতা’ চালু করা এবং মানসম্মত বইয়ের ন্যূনতম ৩০০ কপি কিনে নেওয়ার চার দফা দাবিও জানিয়েছে সমিতি।

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলার নতুন বইয়ের গন্ধে। কিন্তু এবার সংসদ নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত তারিখ পিছিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি। এতে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন সৃজনশীল ২৬২ প্রকাশক।

সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, রমজানের শুরুতে মেলা আয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। প্রেস ও বাইন্ডিং শ্রমিক এবং স্টল নির্মাণের কারিগর পাওয়া কঠিন হবে। তাই পাঠকশূন্য মেলায় স্টল নিলে নিশ্চিত লোকসান হবে।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রকাশক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘সামনে ঈদ, এ সময় বাজেটের সিংহভাগই চলে যায় মানুষের পোশাক ও খাদ্যদ্রব্যে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে মেলার প্রধান ক্রেতা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় থাকবেন না। পাঠকশূন্য মেলায় স্টল নেওয়া এবং জেনেশুনে বিষ পান করা একই কথা।’

প্রকাশকেরা বলেন, অমর একুশে বইমেলা কেবল বই বিক্রির স্থান নয়, এটি বাংলাদেশি জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশে প্রকাশিত ৯৫ শতাংশ বইয়ের প্রথম মুদ্রণ ৩০০ কপি বা তার কম বিক্রি হয়। আর এর ৭০ শতাংশ বই অবিক্রিত থেকে যায়। প্রকাশকেরা জানান, দেড় বছরে বই বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে এ বছর একুশে বইমেলার তারিখ পরিবর্তন জরুরি।

অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা চাই না এটা আমরা কখনোই বলিনি। মেলা অবশ্যই চাই। সময়টিকে বিবেচনা করতে বলেছি। যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা মেলায় অংশ নিচ্ছি না—এটা স্পষ্ট।’

মাহরুখ মহিউদ্দিন আরও বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারির পর ২৬২ জন প্রকাশকসহ সাধারণ প্রকাশকদের জন্য আসন্ন বইমেলায় অংশ নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমরা মেলা চাই, কিন্তু লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে ধ্বংস হতে চাই না।’

সংবাদ সম্মেলনের পর অমর একুশে গ্রন্থমেলার তারিখ পরিবর্তনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছে প্রকাশক সমিতি।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি