সুন্দরবনের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বন্ধ করতে হবে

সর্বমোট পঠিত : 33 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর নেত্রী কমলা সরকার বলেন, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। মাফিয়া এবং মুনাফালোভী ব্যবসা বাণিজ্য’র তান্ডবে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি আতংকগ্রস্ত। সুন্দরবন জলাভূমি রক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। মানববন্ধনে সুন্দরবন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে নানা ধরনের প্লাকার্ড প্রদর্শণ করা হয়।

রামসার কনভেনসন অনুযায়ি ১৯৯২ সালে সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে ঘোষনা করা হয়। আজ মানুষের অত্যাচারে সুন্দরবন জলাভূমি আক্রান্ত। কয়লা দূষণ এবং শিল্প দূষণ বন্ধ করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন জলাভূমি রক্ষা করো। সুন্দরবনের প্রাণ পশুর নদ বিষাক্ত পারদে বিপর্যস্ত। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনের পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বন্ধ করতে হবে। সুন্দরবন রক্ষায় বনসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃংখলা বাহিনীকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন বন্ধ করা না গেলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র রক্ষা করা যাবেনা। ০২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে মোংলার কাপালিরমেঠ গ্রামে বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানবববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), সুন্দরবন রক্ষায় আমরা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

সোমবার সকাল ১১টায় মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ। এসময়ে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ধরা’র নেত্রী কমলা সরকার, নাগরিক নেতা এ্যাড. সার্বভৌম রায়, রাকেশ সানা, প্রসেনজিৎ সরদার, ্ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র হাছিব সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ভলান্টিয়ার মেহেদী হাসান, ইয়ুথ লিডার আরাফাত আমিন দূর্জয়, শেখ সাব্বির হাসান দীপ্ত প্রমূখ। 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের প্রান পশুর নদীতে উন্মুক্ত ভাবে বিষাক্ত কয়লা পরিবহন এবং খালাস-বোঝাই হচ্ছে। সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র’র দূষণে প্রাণপ্রকৃতি বিপর্যস্ত। শিল্প দূষণ, কয়লা দূষণ, প্লাস্টিক পলিথিন দূষণ ও বিষের দূষণ বন্ধ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন করতে না পারলে সুন্দরবন জলাভূমিকে রক্ষা করা যাবে না। জেলে সমিতির নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন সুন্দরবনের নদী খাল মাছশুন্য হয়ে পড়েছে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা না গেলে সুন্দরবনে মাছসহ জলজপ্রাণী অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। 

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর নেত্রী কমলা সরকার বলেন, সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠির জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। মাফিয়া এবং মুনাফালোভী ব্যবসা বাণিজ্য’র তান্ডবে সুন্দরবনের প্রাণপ্রকৃতি আতংকগ্রস্ত। সুন্দরবন জলাভূমি রক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। মানববন্ধনে সুন্দরবন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে নানা ধরনের প্লাকার্ড প্রদর্শণ করা হয়।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি