বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘আগে ৭–৮ প্রজাতির পরিযায়ী হাঁস আমরা এখানে দেখতাম। সেখানে ল্যাঞ্জা ও নীলপাখা হাঁস আসত। কিন্তু ইদানীং তারা আসে না বললেই চলে, আসলেও হয়তো পুরো শীতে মাত্র দু-একটি দেখা যায়।’
‘পাখির রাজ্যে’ এবার দেখা নেই কোনো পাখির
পাখির রাজ্য হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার নেই পরিযায়ী পাখি। মধ্য জানুয়ারিতেও পরিযায়ী পাখি শূন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক ও ঝিলগুলো। এ কারণে এ বছর ‘পাখি মেলা’ আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, জলাভূমি ভরাট করে অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে পাখিদের বিচরণক্ষেত্র নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জনসমাগম ও শব্দদূষণ; ফলে ক্যাম্পাসের পরিবেশ আর পাখিদের জন্য নিরাপদ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, পরিযায়ী পাখি শূন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট এলাকার লেক। সেখানে কেবল মাঘের রোদ পোহাতে দেখা গেছে কয়েকটি পানকৌড়িকে, যারা সারা বছরই এই ক্যাম্পাসে থাকে। রেজিস্ট্রার ভবনের বিপরীতের লেকটিতে কয়েকটি জলপিপির দেখা মিললেও চিরচেনা সরালি হাঁসের দেখা নেই। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ হলের সামনের লেকে মাত্র তিনটি শামুকখোল পাখির দেখা মিলেছে, যারা জলাভূমির ধারে খাবার খুঁজছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রাণী গবেষণা কেন্দ্রের পুকুরে অন্য বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি পরিযায়ী পাখির দেখা মিললেও এবার সেখানেও হাহাকার। সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও চীন থেকে আসা পাখিদের প্রিয় এই বিচরণক্ষেত্রটি এখন পাখিহীন।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাখিদের জন্য যে পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার, তা করা হয়নি। দর্শনার্থীদের বিরক্ত করা এবং লেক ভরাট হওয়ার কারণে আমরা বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। পাখিদের জন্য লেকগুলোর সঠিক পরিচর্যাও হচ্ছে না।’
বিগত বছরগুলোতে এসব লেকে পচার্ড, গার্গেনি, খয়রা ডাহুক, মানিকজোড়, খঞ্জনাসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মিলত। কিন্তু গত কয়েক বছরে ঝিল ভরাট করে ভবন নির্মাণ ও শব্দদূষণ বেড়ে যাওয়ায় বদলে গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা পরিবেশ। এতে ভেঙে পড়ছে এখানকার জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক চক্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, ‘আগে ৭–৮ প্রজাতির পরিযায়ী হাঁস আমরা এখানে দেখতাম। সেখানে ল্যাঞ্জা ও নীলপাখা হাঁস আসত। কিন্তু ইদানীং তারা আসে না বললেই চলে, আসলেও হয়তো পুরো শীতে মাত্র দু-একটি দেখা যায়।’
গবেষকরা বলছেন, এ বছর সারা দেশেই পরিযায়ী পাখির আনাগোনা কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে পারিনি। লেকের একেবারে গা ঘেঁষে অনেক ভবন নির্মাণ করায় পাখিদের ওড়ার জায়গা (ফ্লাইং জোন) নষ্ট হয়েছে। মানুষের আনাগোনা ও শোরগোল বাড়ায় পাখি আর এই ক্যাম্পাসকে নিরাপদ মনে করছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা থাকলেও বর্তমানে এর অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মন্তব্য