কোভিড: ক্ষতি কাটাতে পারেনি ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান


নিউজ ডেস্ক:
করোনাভাইরাসের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তবে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রোববার (৬ জুন) ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ অন সিএমএসএমইস অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং দেয়ার রিকোভারি : এভিডেন্স ফরম বিএসসিআইসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রিজম প্রকল্পের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্পোনেন্ট এবং ইকোনমিক রিপোটার্স ফোরাম (ইআরএফ) এই সেমিনারের আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধে জরিপের তথ্য তুলে ধরেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএল) রিসার্চ ডিরেক্টর মনজুর হোসেন।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই উন্নয়নের জন্য কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতকে সম্প্রসারিত করার কোনো বিকল্প নেই।

নূরুল মজিদ বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও বিসিক শিল্পনগরি এলাকাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত ছিল। বাংলাদেশে সিএমএসএমই শিল্পখাতকে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ খাত কর্মসংস্থান, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন ও রপ্তানি আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১, ২০২৬ সালের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে এলডিসি গ্রাজুয়েশন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সাল নাগাদ শিল্পোন্নত বাংলাদেশ গড়ার মতো সরকারের নির্ধারিত উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো অর্জনে এ খাত ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির ফলে বৈশিক অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে এসএমই খাতে উৎপাদন ও বিপণন সবচেয়ে বেশি বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। এ খাতের হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সরকার অনেকগুলো প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলে, সে প্যাকেজ থেকে দেশের অনেক অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তরা ঋণ পান। সে কারণে সরকার পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গ্রামীণ এলাকার ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বাড়াসহ আর্থ সামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ।

ইআরএফ-এর প্রেসিডেন্ট শারমিন রিনভী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন রেন্সজে তেরিংক, বিসিকের চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান এনডিসি এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. গোলাম ইয়াহিয়া।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- প্রিজম প্রকল্পের টেকনিক্যল এসিসটেন্স কম্পোনেন্ট এর টিম লিডর আলী সাবেত। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন প্রিজম টেকনিক্যাল এসিসটেন্ট প্রকল্পের সিনিয়র এক্সপার্ট ও বিআইডিএস এর গবেষণা পরিচালক ড. মঞ্জুর হোসেন।
প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, বিল্ড এর চেয়ারপার্সন আবুল কাশেম খান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রিজওয়ান রহমান। এতে সঞ্চালনা করেন ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশেদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেন্সজে তেরিংক বলেন, কোভিড-১৯ এর আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গ্রহণ করা পদক্ষেপ প্রসংশনীয়। করোনা মহামারিতে যারা কাজ হারিয়েছেন, তাদের দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সিএমএসএমইখাতের আরও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে সমস্যা নিরসন, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও পানি সুবিধা নিশ্চিতসহ করোনা মহামারির গবেষণা খাতকে শক্তিশালী করতে জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও ইইউ বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Top
ঘোষনাঃ