৪২০ টাকায় বিক্রি করা তরমুজের ৭৫ টাকা পায় চাষি


নিউজ ডেস্ক:
একটি তরমুজে চাষি পাচ্ছেন মাত্র ৭৫ টাকা, কিন্তু কয়েক হাত ঘুরে রাজধানীর বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে চারশো বিশ টাকায়।

অর্থাৎ কৃষকের বিক্রিমূল্যের প্রায় ছয়গুণ বেশি দাম দিয়ে তরমুজ কিনছেন ক্রেতারা। লাভের সিংহভাগ ঢুকছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

খুলনার এক চাষি ছয় কেজি ওজনের একটি তরমুজ ক্ষেত থেকে বিক্রি করেছেন মাত্র ৭৫ টাকায়। কেজিতে যার দাম পড়ে ১২ টাকার মতো।

ষাট হাজার টাকা পরিবহণ খরচে এই ট্রলারে ১১ হাজার তরমুজ এসেছে। হিসাবযন্ত্র বলছে, পরিবহণ খরচসহ ছয় কেজির একটি তরমুজের দাম পড়ে ৮১ টাকা। তবে, ট্রলার থেকে ডাঙায় নামতেই তরমুজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়।

আড়ত থেকে শত হিসেবে তরমুজ কিনে নেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এক হাজার টাকা বিক্রিতে এক’শো টাকা কমিশন নেন আড়তদার। পাশাপাশি প্রতিটি তরমুজে লেবার খরচ যোগ হয় আড়াই টাকা। সেই হিসেবে আড়ত থেকে ছয় কেজি ওজনের একটি তরমুজ খুচরা বিক্রেতারা কিনে নেন সর্বোচ্চ একশো ৮০ টাকায়।

আর রাজধানীর খুচরা বাজারে দেখা গেল পিছ হিসেবে কেনা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। তাও ৭০ টাকা প্রতি কেজি। সেক্ষেত্রে, ছয় কেজি ওজনের একটি তরমুজ ভোক্তা কিনছে চার’শো বিশ টাকায়। যা কৃষকের বিক্রি মূল্যের প্রায় ছয় গুণ।

ক্রেতারা বলেন, মোকামে অনেক দাম বেশি। ক্রেতারা যেভাবে নেয় পিচ হলে পিচ, কেজিতে নিলে কেজি। আমরা চাই তরমুজ কেজিতেই বিক্রি হোক। ক্রেতারাই বলেন কত করে কেজি। তখন বাধ্য হয়েই কেজির কথা বলতে হয়।

দামের এ পার্থক্য স্থানীয় ব্যাপারি, আড়তদার আর খুচরা বিক্রেতারা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের জেলা বাজার উন্নয়ন কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, যে তরমুজে কৃষক পাচ্ছে ১৫-১৬ টাকা সেখান থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌছানো পর্যন্ত এর দাম হয় ৬০ টাকা এটা তো অনেক ব্যবধান হচ্ছে। এর জন্য মিডিলম্যানরাই দায়ী বলে মনে করা হয়।

আগামী বছর তরমুজের দাম ঠিক করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

Top
ঘোষনাঃ