চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলায় গ্রেফতাকৃত আসামীর আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি


স্টাফ রিপোর্টার :
শেরপুররে চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলার অন্যতম আসামী আব্দুর রহমান লিটন ওরফে কাঁচামাল (৫০) কে ২৬ এপ্রিল সোমবার গভীর রাতে জামালপুর জেলার শরীফপুর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ২৬ এপ্রিল বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দিযেছে।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. হাসান নাহিদ চৌধুরীর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবির) ওসি মনসুর আহাম্মদের নেতৃত্বে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হাসান, মঞ্জুরুল হক, মোফাখিখর সঙ্গীয় ফোর্সসহ জামালপুর জেলার সদর উপজেলার শরীফপুর গ্রামে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালায়। এসময় মানব পাচার মামলার পলাতক আসামী আব্দুর রহমান লিটন ওরফে কাঁচামালকে তার বশত বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। ধৃত আব্দুর রহমান লিটন শরীফপুর গ্রামের মৃত আফসার আলী ব্যাপারীর ছেলে।

এর আগে শেরপুর জেলা শহরের খরমপুর মহল্লার বাসিন্দা ওমর ফারুকের বাসা থেকে ৯ মার্চ রাতে মানব পাচার মামলায় ভাড়াটিয়া মো. রুহুল আমিন ওরফে ভূট্টো ও তার স্ত্রী কল্পনা আক্তারকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। এসময় ডিবির উপস্থিত টের পেয়ে আব্দুর রহমান লিটন ওরফে কাঁচামাল পালিয়ে যায়।

জানা যায়, সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মাঝপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রহুল আমিন ওরফে ভূট্টো ও তার স্ত্রী কল্পনা আক্তার শেরপুর শহরের খরমপুর মহল্লার ওমর ফারুকের বাসার ৪র্থ তলা ভবনের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে মেয়ে এনে পাচার এবং তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসার করিয়ে আসছিল। গত ৮ মার্চ জামালপুর জেলার সদর উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আব্দুর রহমান লিটন ওরফে কাঁচামাল নামে ওই যুবক গাজীপুর জেলার মাজুখান গ্রামের জনৈক আব্দুস সাত্তারের যুবতী মেয়েকে ফুসলিয়ে এনে রহুল আমিন ওরফে ভূট্টোর খরমপুর মহল্লার ভাড়াটিয়া বাসায় এনে তাকে জিম্মী করে রাখে। পরে রাতে তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা কাজ করানোর চেষ্টা করে। এতে রাজি না হয়ে ওই যুবতীর কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করলে বিষয়টি বাসা মালিক ওমর ফারুক টের পেয়ে ডিবি পুলিশে খবর দেন।
ডিবি পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিম আছমা আক্তার বৃষ্টিকে উদ্ধার করে এবং সেই সাথে মানব পাচারের দায়ে ভাড়াটিয়া রহুল আমিন ওরফে ভূট্টো ও তার স্ত্রী কল্পনা আক্তারকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে শেরপুর সদর থানায় ২০১২ সালের মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইনে ১১/১২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- ৩৪, তাং ৯/৩/২০২১। এদিকে মামলার পলাতক আসামী আব্দুর রহমান লিটন ওরফে কাঁচামালকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Top
ঘোষনাঃ