চলছে বোরো মৌসুমের ধান কাটার উৎসব, ন্যায্য দাম চান কৃষকেরা


নিউজ ডেস্ক:
হবিগঞ্জে বোরো মৌসুমের ধান কাটার কাজ চলছে পুরোদমে। করোনার লকডাউনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ফলে শ্রমিক সংকট নিরসন হয়েছে। পাশাপাশি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনে দ্রুত কাটা হচ্ছে ধান। ইতোমধ্যে জেলার ৩০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকেরা চান, ধানের ন্যায্য দাম।

হাওরবেষ্টিত হবিগঞ্জ জেলার প্রধান ফসল বোরো মৌসুমের ধান। এবার ধান কাটার শুরুতেই ভারি বর্ষণ ও আগাম বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাই শ্রমিক ও মেশিনের মাধ্যমে দ্রুত গতিতে কাটা হচ্ছে পাকা ধান।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, হাওরাঞ্চলের ধান কাটা শেষ করতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আগাম বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ধান ঘরে তুলতে পারবে কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, শ্রমিকের তুলনায় হারভেস্টার মেশিনে ধান কাটতে সময় ও খরচ দুটিই কম। তাই আরও বেশি মেশিন প্রদানের দাবি তাদের।

একজন কৃষক জানালেন, শ্রমিক দিয়ে যেখানে ৪ হাজার টাকা খরচ হয় মেশিনে সেখানে ২ হাজার টাকা। আবার সময়ও সাশ্রয় হয়।

শ্রমিকরা বলছেন, আগাম বন্যার খবর পেয়ে চাষীরা মজুরি বেশি দেয়ায় আমরা দিনে-রাতে ধান কাটছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ধান কাটা শেষ করতে পারব।

পর্যাপ্ত শ্রমিক ও মেশিনে ধান কাটছে কৃষক। যথাসময়ে ধান উঠানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন হবিগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক তমিজ উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা হাওড় এলাকায় ২৮ শতাংশ জমির ধান কাটতে সক্ষম হয়েছি। বাকি এলাকায় ৮ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। এখানে ধান কাটতে কোনো সমস্যা নেই।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভারি বর্ষণ ও আগাম বন্যার পূর্বাভাসের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল বলেন, সবাইকে আমরা সতর্ক করছি। যাতে যথাসময়ে কৃষকরা তাদের নিজ ধরে পাকা ধান তুলতে পারে।

জেলায় এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন।

Top
ঘোষনাঃ