আইসিইউ বেড পেতে অন্যের মৃত্যুর অপেক্ষা!


নিউজ ডেস্ক:
কোভিড সংক্রমণ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যেখানে কোনো তদবিরেও মিলছে না মরণাপন্ন রোগীর জন্যে একটি আইসিইউ বেড। দুঃখজনক মৃত্যুতেই কেবল খালি হতে পারে আইসিইউ। এই ভরসাতেও অপেক্ষা করতে হয় অনেক এইচডিইউ’র রোগীদের।

“কবরী ম্যাডামের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফোন এসেছিলো। একজন ডাক্তারের ভাইকে আসগর আলী হাসপাতালে শিফট করায় সেই আইসিইউ কবরী সরোয়ার পেয়েছেন,” বলছিলেন হাসপাতালের এক চিকিৎসাকর্মী। এভাবেই অনেক ভিভিআইপিকে সর্বোচ্চ তদবির করে পেতে হয় একটি আইসিইউ বেড। রাজধানীর শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে আইসিইউ এর খোঁজ নিতে গেলে জানানো হলো ‘হাই ভোল্টেজ’ তদবিরেও মিলছে না আইসিইউ।

ওই চিকিৎসাকর্মী বলেন, “কি মনে করেন? আইসিইউতে সিট কয়টা? এতো রোগীর জায়গা দিবে কিভাবে? হাইভোল্টেজ তদবির আছে। তাছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আইসিইউতে অগ্রাধিকার।” কোভিড সংক্রমণের অতি উচ্চহারের এই সময়ে নিদারুণ সংকটে রাজধানীর মুমুর্ষূ রোগীরা। সাধারণ মানুষের জন্যে আরো দুরূহ চিকিৎসা পাওয়া।

ঢাকা মেডিক্যালে বাবার জন্য তিনদিন আগে আইসিইউ এর সিরিয়াল দিয়েছিলেন মিথুন কুন্ডু। সিরিয়াল ছিলো একশো। জরুরি অবস্থায় মিথুনের বাবাকে এইচডিইউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানেন না শেষ পর্যন্ত বাবার জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা করতে পারবেন কিনা। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে জায়গা না পেয়ে শেষে ঢাকা মেডিক্যালের কোভিড ইউনিটের সামনে অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে অপেক্ষায় স্বজনরা।

কোনো রোগী সুস্থ হলে কিংবা মারা গেলে তবেই খালি হয় একেকটি আইসিইউ শয্যা। আর সেই শয্যা কাকে দেয়া হবে- তা ঠিক করা অনেকটাই কঠিন হয়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ‘চারজন এইচডিইউ থেকে আমাদের আইসিইউ’তে নিতে হবে। একটা বেড খালি হবে, ডক্টর বলছে এক রোগীর অবস্থা ক্রিটিকাল। এই এক বেডে কে যাবে সেই ডিসিশানটা নেয়া কঠিন। অনেক সময় মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাদের।’

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ জানান, ‘দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি, তাদের জন্য আমরা কাছে ফোন আসে। বলে আইসিইউ বেড খালি আছে কিনা, যদি আমাকে দিতে পারেন। আমি অপারগতা প্রকাশ করি, কারণ আমার এখানে খালি নাই।’ এছাড়া অনেকেই হাসপাতালে আসেন একেবারে শেষ মুহূর্তে, অবস্থা জটিল হওয়ার পরে। ফলে তাদের ব্যবস্থাপত্র দেয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক আরো বলেন, ‘উদাসীনতা হোক, অথবা না জেনে হোক, কিন্তু যখন আসছে আমাদের কাছে তখন ৮০’র নিচে, ৬৫ এর নিচে অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়ে আসছে। তখন আমরা অনেক চেষ্টা করেও তাকে কোনভাবেই ভালো করতে পারি না। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ চিকিৎসকদের।

Top
ঘোষনাঃ