এক রাতেই সবুজ ধান ঝলসে সাদা হয়ে গেল!ৎ


নিউজ ডেস্ক:
কালবৈশাখী ও গরম বাতাসে কিশোরগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এক রাতেই জমির ধান সবুজ থেকে সাদা হয়ে গেছে।

নষ্ট হয়ে গেছে ধানের শীষ। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত ঠিকঠাক ছিল সবকিছু। কিছুদিন পরেই পাকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন কৃষক। কিন্ত রাতেই প্রচণ্ড গরম বাতাস হঠাৎই সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। রবিবার রাতে প্রায় তিন ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড় ও গরম বাতাসে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলসহ অনেক এলাকায় বোরো ধান ঝলসে সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে জেলার ১৩ উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি নষ্ট হয়েছে।

এর আগে শিলাবৃষ্টি কিংবা আগাম বন্যায় ক্ষতির সম্মুখীন হলেও গরম বাতাসে বোরো ধানের জমি এভাবে নষ্ট হওয়ায় দিশেহারা কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, হালকা একটু গরম বাতাস হলে বিকেলে ভালো থাকা ধান পরেরদিন সকালে এসে দেখাা যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। যা আবাদ করা হয়েছিল এবার সব শেষ হয়ে গেল। ঘরে তোলার মতো কোন ধান নাই। এক কুলা ধানও ঘরে নেয়ার মতো নাই।

কয়েকদিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও জমির প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার কথা জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম বলেন, উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঘূর্ণিঝড়টি দুই তিন ঘন্টা থাকার কারণে অনেক হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়।

এ বছর কিশোরগঞ্জ জেলায় ১ লাখ ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

এদিকে, একই চিত্র গোপালগঞ্জের সদর টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া এবং কাশিয়ানীতে। এক রাতের মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ধান সবুজ থেকে সাদা হয়ে গেছে। সোনার ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, ‘আমরা সেখানকার ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা এর কারণ খুঁজে পেলে আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবো।’

এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে।

Top
ঘোষনাঃ