ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যা, পলাতক স্ত্রী গ্রেপ্তার

সর্বমোট পঠিত : 247 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

রায়ের পর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, দিলু বেগম পারিবারিক কলহের জেরে তার স্বামী মোহনকে হত্যা করেন। আদালত দিলু বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।


লক্ষ্মীপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা স্বামীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী দিলু বেগমকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। হত্যা মামলার রায়ের দেড় মাস পর শুক্রবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় ফেনীর বিজয়সিংহ সার্কিট হাউস এলাকার একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।

তিনি বলেন, স্বামীকে হত্যার ঘটনায় আসামি দিলুকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন। আমরা অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তাকে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত দিলু ফেনী জেলার দক্ষিণ চাডিপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালেকের মেয়ে। তার স্বামী ভিকটিম মোহনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের কালিদাসের বাগ গ্রামে।

রায়ের পর জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, দিলু বেগম পারিবারিক কলহের জেরে তার স্বামী মোহনকে হত্যা করেন। আদালত দিলু বেগমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৩০ মার্চ রাতে নিজ বসতঘরে খুন হন মহরম আলী। ঘটনার রাতে তিনি তার স্ত্রী দিলু বেগম ও ৫ বছরের মেয়ে তিশাকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। ওই রাতে মোহনের মা জাহানারা বেগম (৬০) বাড়িতে ছিলেন না। রাত ১টার দিকে তিনি ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পান। মরদেহের গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। পরদিন ৩১ মার্চ মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ছেলেকে হত্যার অভিযোগে দিলু বেগমকে অভিযুক্ত করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তিনি জামিনে বেরিয়ে পলাতক থাকেন।

হত্যা মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ হত্যার দায়ে দিলু বেগমকে অভিযুক্ত করে ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিম মোহন কাজের সুবাদে ফেনীত থাকতেন। তিনি নেশা করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে তিনি ফেনী থেকে বাড়িতে আসেন এবং ওই রাতেই তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দিলু বেগম তার স্বামী মোহনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি