আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ কেমন আছে?

শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ কেমন আছে?
সর্বমোট পঠিত : 104 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

করোনায় লকডাউন থাকার কারণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনা সভা আজ হয়নি উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, “এ নিয়ে আগামী ১১ আগস্ট ঝিনাইগাতীর বড় গজনীতে তিন উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।”

আজ আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। খুব স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করছে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায় অধ্যুষিত তিনটি উপজেলার অধিবাসীরা। জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দিবসটি উদযাপনে আলোচনাসভার দিন ও সময় পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন তারা।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে দাঁড়িয়ে কেমন আছে শেরপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ— এমন প্রশ্নে ঝিনাইগাতী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খকশি সোমবার দুপুরে বলেন, “আমরা এখনও আদিবাসী মর্যাদা পাইনি। আমরা শত বছর যাবত বনে বাস করলেও আমাদের ভাঙাচোরা ঘরবাড়ি মেরামত করতে দিচ্ছে না বন বিভাগ। যে কারণে মেঘ বৃষ্টিতে আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। আমাদের উচ্ছেদ করে পাহাড়ের এক হাজার একর জমিতে ন্যাশনাল পার্ক করবে বন বিভাগ। এর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া, রাংটিয়া, হালচাটি, নকশি, গজনী, গান্ধীগাঁও, বড় গজনী, ছোট গজনী, বাকাকুড়ার কিছু অংশসহ তাওয়াকুচা পর্যন্ত।  ওই পার্ক স্থাপন হলে কমপক্ষে পাঁচ হাজার আদিবাসী উচ্ছেদের শিকার হবে। এসব কিছু মিলিয়ে আমরা ভালো নেই।”

নবেশ খকশি আক্ষেপ করে বলেন, “৭১’ এর যুদ্ধের পর বাড়ি ফিরে দেখি আমাদের জমিজমা বাড়ি ঘর সব বেদখল হয়ে গেছে। তখন থেকেই আমরা নিঃস্ব। পরে জমি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন সময়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। উচ্চ আদালতের রায়ে আমরা ডিক্রি পাই। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের ভূমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেলেও জবরদখলকারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ওইসব জমি আবারও তারা বেদখল করে নেয়। শুধু তাই না, আমাদের বিপুল পরিমাণ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া আরওআর রেকর্ডভুক্ত বেশ কিছু জমি পরবর্তীতে বিআরএস খতিয়ানে বন বিভাগের নামে চলে গেছে। এসব নিয়ে আদালতে মোকদ্দমা চলমান আছে।”

করোনায় লকডাউন থাকার কারণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আলোচনা সভা আজ হয়নি উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, “এ নিয়ে আগামী ১১ আগস্ট ঝিনাইগাতীর বড় গজনীতে তিন উপজেলার নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।”
 
নালিতাবাড়ী ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান লুইস জানান, পাহাড়ে গারো, কোচ, হাজং, বানাই, বর্মণ ও হদিসহ আট জাতি গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছে। তিন উপজেলা মিলিয়ে ওইসব সম্প্রদায়ের লোকসংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার।  
 

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি