সৈয়দপুরে শেষ পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন, কস্টে শ্রমজীবিরা  

সর্বমোট পঠিত : 45 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

শেষ পৌষের হাড় কাঁপানো শীত ও পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষেরা সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন। আজ শুক্রবার সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।


মিজানুর রহমান মিলন:
শেষ পৌষের হাড় কাঁপানো শীত ও পশ্চিমের হিমেল হাওয়ায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষেরা সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন। আজ শুক্রবার সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার এখানে সর্বনিম্ন ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস। যা ছিল চলতি শীত মৌসুমে নীলফামারী জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সাথে সৈয়দপুরসহ এ অঞ্চলে ঘন্টায় ১৪ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারণে আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় দৃষ্টিসীমা ছিল মাত্র ৩০০ মিটার। পরবর্তীতে বেলা ১২টায় তা এক হাজার দুই শত মিটারে উন্নীত হয়।

হাড় কাঁপানো শীতে চরম বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষেরা। শরীরে হুল ফোটানো ঠান্ডায় তারা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করছেন। আর দিন আনে দিনে খায় এমন মানুষজন প্রচন্ড শীতে কাজে যেতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটাই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। অনেকে তাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। শহরের শহীদ তুলশীরাম সড়কের (দিনাজপুর রোড) কাশেম সেলুনের কর্মচারী খুরশীদ জানান, গত সপ্তাহখানেকের প্রচন্ড শীতে মানুষের জুবুথুবু অবস্থা। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। তাই আয় কমে যাওয়ায় খুব কষ্টে আছি। 

সকাল ১০টায় শহরের বিমানবন্দর রোডে কথা হয় রিক্সাচালক ইউনুছ আলীর সাথে। তিনি জানান, বাতাস ও ঠান্ডায় শহরে লোকজনের চলাফেরা অনেক কম। অধিকাংশ দোকানপাট এখনও বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ঠান্ডায় রিক্সা চালানো খুব কষ্ট। পরিজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বের হতে হলো। যাত্রীর অপেক্ষায় বসে রয়েছি।

এদিকে, সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ লোকমান হাকীম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবারের চেয়ে আজ শুক্রবার তাপমাত্রার পারদ বেড়েছে। কিন্তু পশ্চিমের হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হয়েছে । কুয়াশায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর রানওয়েতে সকাল ৯টায় দৃষ্টিসীমা ছিল ৩০০ মিটার। পরবর্তীতে দৃষ্টিসীমা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তিনি জানান বিমানের ফ্লাইট উঠানামার জন্য দৃষ্টিসীমার প্রয়োজন ২ হাজার মিটার।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার ঘোষ জানান, চলতি শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণ সৈয়দপুর বিমানবন্দরে মাঝে মধ্যে ফ্লাইট উঠানামায় বিঘ্ন ঘটছে। তবে সকালে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ভ হলেও কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলাচল করছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি