মেসির গায়ের ‘আরব পোশাকে’ পশ্চিমাদের সুপ্ত বর্ণবাদ ফাঁস

সর্বমোট পঠিত : 61 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

ফ্রান্সকে হারিয়ে রোববার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ের পর আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির হাতে শিরোপা তুলে দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এর ঠিক আগ মুহূর্তে বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মেসির গায়ে জড়িয়ে দেন কাতার এবং আরব বিশ্বের প্রতীক ‘বিশত’ নামের এক ধরনের বিশেষ পোশাক।


ফ্রান্সকে হারিয়ে রোববার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা। বিশ্বজয়ের পর আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির হাতে শিরোপা তুলে দেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এর ঠিক আগ মুহূর্তে বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মেসির গায়ে জড়িয়ে দেন কাতার এবং আরব বিশ্বের প্রতীক ‘বিশত’ নামের এক ধরনের বিশেষ পোশাক।

তবে মেসিকে বিশত পরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পশ্চিমারা। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এই পোশাককে কটাক্ষ করে পোস্ট করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তারা সেগুলো মুছে দেন। তবে আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষ বলছেন, মেসির গায়ের এ আরব পোশাক পশ্চিমাদের মনে সুপ্ত, লুকায়িত বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশ করে দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো এই পোশাককে নিয়ে বিদ্রুপ করেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাম লিখেছিল, ‘এরকম উদ্ভট কাজ বিশ্বকাপের সেরা মুহূর্তটি নষ্ট করে দিয়েছে।’

ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিঙ্কারকে বিবিসির অনুষ্ঠানে বলতে শোনা যায়, ‘মেসির আর্জেন্টিনার জার্সি তারা যেভাবে ঢেকে দিল এটি লজ্জাজনক।’ লিঙ্কারের পাশে থাকা আরেকজন বলেন, ‘কেন তারা এটি করল? কোনো কারণ দেখি না।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াবিষয়ক বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের মার্ক ওগদেন টুইটে লিখেছিলেন, ‘সব ছবি নষ্ট হয়ে গেল, এমন পোশাক পরানো হয়েছে যেটি দেখে মনে হচ্ছে মেসি হয়ত এখন চুল কাটবে।’

এসব টুইট দেখে এগুলোর জবাব দেন অন্যরা। এছাড়া সব পশ্চিমারা যে মেসির গায়ে জড়ানো পোশাক নিয়ে অখুশি হয়েছিলেন এমনটি নয়।

কেউ কেউ এর পক্ষেও বলেন। টার্বো নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ব্রাজিলের তিনবারের বিশ্বজয়ী ফুটবলার পেলের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিটি ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপের। সেবার বিশ্বকাপ জয়ের পর পেলের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল মেক্সিকান হ্যাট।

ছবিটির নিচে লেখা হয়েছে, ‘১৯৭০ সালে মেক্সিকো যখন বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তারা শিরোপাজয়ী পেলের মাথায় মেক্সিকান হ্যাট পরিয়ে দিয়েছিল। আর মিডিয়া এটিকে সাংস্কৃতিক সহবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু যখন কাতার এটি করল তখন ভন্ড পশ্চিমারা উন্মাদ হয়ে গেছে আর দ্বিমুখী মনোভাব দেখানো শুরু করেছে।’

১৯৭০ বিশ্বকাপে মেক্সিকান হ্যাট মাথায় ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা পেলে (বাঁয়ে), অপরদিকে আরব পোশাক বিশত গায়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি

তবে যে আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে আরব পোশাক বিশত পরানো নিয়ে এত আলোচনা সেই আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে এর প্রশংসা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার পত্রিকা তেলাম লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ শিরোপা নেওয়ার সময় মেসিকে যে বিশত দেওয়া হয়েছে এটি কাতার ও আরব সংস্কৃতির অংশ। লাতিন আমেরিকার সংস্কৃতিতে কাউকে সম্মান করতে যেমন চাবি দেওয়া হয় আরবে বিশত দেওয়া হয়।’

লস আন্দেস নামে একটি সংবাদমাধ্যম লিখেছে, ‘কাতারের আমির যে পোশাক পরে আছেন মেসিকে তিনি সেই একই পোশাক পরিয়ে দিয়েছেন।’

এছাড়া কাতারে আর্জেন্টাইন ভক্তরা বিশত কিনছেন এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

এদিকে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই কাতার বিশ্বকাপকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে আরব মুসলিমদের ‘সন্ত্রাসী’ এবং ‘প্রতারক’ হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি