ফের কী নিয়ে দ্বন্দ্ব পাক-ভারতে

ফের কী নিয়ে দ্বন্দ্ব পাক-ভারতে
সর্বমোট পঠিত : 21 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

বিরিয়ানি থেকে পোলাও। ভারত ও পাকিস্তানের রসনাবিলাসে অভিন্ন খাদ্য উপাদান বাসমতি চাল। এবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এই বাসমতি চাল নিয়েই। এই চালের এক্সক্লুসিভ ট্রেডমার্ক দাবি করে আবেদন করেছে ভারত। এর ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এই চালের একক মালিকানা হিসেবে টাইটেল থাকবে ভারতের। কিন্তু তাদের এমন আবেদনে পাকিস্তানের ইমেজে বড় রকমের ধাক্কা লেগেছে। তারা মনে করছে এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজার থেকে পাকিস্তানকে হঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

এ অবস্থাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহৎ শহর লাহোরের আল বরকত রাইস মিলের মালিক গোলাম মুরতজা পারমাণবিক বোমা হামলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, মনে হচ্ছে এর মাধ্যমে আমাদের ওপর (ভারত) পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করছে।


ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান কমিশনের কাছে এ জন্য ‘প্রটেকটেড জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (পিজিআই) দাবি করে আবেদন করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানিকারক ভারত। তারা বছরে ৬৮০ কোটি ডলারের চাল রপ্তানি করে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বে চাল রপ্তানিতে চতুর্থ। তারা বছরে ২২ কোটি ডলারের চাল রপ্তানি করে।


গত তিন বছর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাসমতি চালের রপ্তানি বিস্তৃত করেছে পাকিস্তান। কীটনাশক নিয়ে ভারতের সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জটিলতার সুযোগ নিয়েছে পাকিস্তান।


ইউরোপিয়ান কমিশনের মতে, ইইউতে বছরে যে পরিমাণ বাসমতি চাল লাগে তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ দেয় পাকিস্তান। এর পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টন। পাকিস্তান রাইচ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মালিক ফয়সাল জাহাঙ্গীর বলেছেন, আমাদের কাছে ইউরোপ হলো খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বাসমতি চাল বেশি অর্গানিক এবং বেশি উন্নত মানসম্পন্ন।


ওদিকে ভারত বলেছে, বাসমতি চাল উৎপাদনের জন্য তারাই একমাত্র উৎপাদনকারী এমনটা দাবি করেনি আবেদনে। কিন্তু পিজিআই মর্যাদা পেলে সেটাই স্বীকার করে নেওয়া হবে।


ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিজয় সেটিয়া বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন মার্কেটে চাল রপ্তানি করে আসছে ভারত ও পাকিস্তান। এক্ষেত্রে সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতা করছে তারা। আমার মনে হয় না যে, পিজিআই মর্যাদার ফলে তা পরিবর্তন হবে।


ওদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনের অধীনে এ দুটি দেশকে অবশ্যই সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটি সমাধানে বা সমঝোতায় আসতে হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই দেশ যদি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিয়ম যদি ভারতের পক্ষে যায়, তাহলে ইউরোপিয়ান আদালতে আপিল করতে পারবে পাকিস্তান। কিন্তু তাতে দীর্ঘমেয়াদী রিভিউ প্রক্রিয়ায় তাদের চাল উৎপাদনকারী শিল্প বিকল হয়ে পড়বে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি