ঐতিহাসিক সূর্যদী গণহত্যা দিবস আজ

সর্বমোট পঠিত : 41 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সূর্যদী যুদ্ধ ও গণহত্যা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এম এ হাসেম জানান, এই দিনটিতে সূর্যদী এলাকায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ ২৪ নভেম্বর শেরপুরের ঐতিহাসিক সূর্যদী গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে জেলার সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রামে পাকবাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪৯ নিরীহ গ্রামবাসী। প্রায় ২০০ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়। 

স্বাধীনতার ৫০ বছরে শহীদদের স্মৃতিতে ২০২১ সালে নির্মিত হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু এখনো গণহত্যায় শহীদদের কবরগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। এই কবরগুলো চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন শহীদ পরিবার ও স্থানীয়রা ।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, ১৯৭১ সালের এ দিনে সকাল ৮টার দিকে পাক হানাদার বাহিনীরা শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রামে হামলা চালায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহের আলবদর প্রধান মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের নির্দেশে স্থানীয় রাজাকারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ সময় এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে আত্মগোপনে থাকা ৬ বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও এগিয়ে যান। 

তারা হলেন, সোহরাব আলী, আবদুল খালেক, ফজলুর রহমান, হাবীবুর রহমান, মমতাজ উদ্দিন ও আবুল হোসেন। এরপর স্কুল মাঠে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করার নির্দেশ দেয় পকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তা। এ সময় পার্শ্ববর্তী খুনুয়া চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন পাশের একটি ধান ক্ষেত থেকে ফাঁকা গুলি শুরু করেন। এ গুলির আওয়াজ পেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকদের ফেলে রেখে মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন ও সূর্যদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে একটি ধানক্ষেতে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী।

এদিকে স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫০ বছর পর সূর্যদী এ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ১৮ মার্চ শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক সেটির উদ্বোধন করেন।  

সূর্যদী যুদ্ধ ও গণহত্যা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এম এ হাসেম জানান, এই দিনটিতে সূর্যদী এলাকায় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘদিন পরে হলেও স্মৃতিস্তম্ভ পেয়েছি। আমাদের শহীদদের কবরগুলো চিহ্নিত করা হয়নি। আমাদের দাবি শহীদদের কবরগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণ এবং শহীদদের পরিবারগুলোর যেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি