দেখার কেউ নেই

করোনায় দূর্দিন চলছে বেদেপল্লীর পরিবারগুলোর

শেরপুরে বসবাসরত ভাসমান বেদেপল্লির পরিবার
সর্বমোট পঠিত : 138 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সোহেল নামের এক বানর খেলা দেখানোর বেদে পল্লীর একজন যশোহর থেকে এসে ব্রক্ষপুত্র ব্রীজের পাশ্বেই থাকেন। তিনি বলেন, আমি হাটে বাজারে বানরের খেলা দেখিয়ে যা আয় রোজগার করি তাই দিয়ে সংসার চালাই। এহন তো কোন মজমা বসাবার পারিনা। এহন খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। কেউ তো আমাগো সাহায্যও দেয়না। এহন আমরা কি কইরা চলি।

শেরপুরে বসবাসরত ভাসমান বেদেপল্লির পরিবারগুলো ভালো নেই। করোনার কারণে কোনো কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাতে হচ্ছে বেদে পরিবারগুলোকে। স্থায়ী বাসিন্দা না হওয়ায় আর্থিক সহযোগিতাও পাচ্ছে না তারা। এ জন্য তারা রয়েছে বিপাকে। পাচ্ছেনা করোনাকালীন প্রনোদনাও।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রক্ষপুত্র ব্রীজের পাশ্বেই বসবাস করছে বেদেপল্লির ৪০টি পরিবার। এছাড়াও জেলার অন্যান স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো প্রায় ৬০টি পরিবার। সবমিলিয়ে শতাধিক বেধে পরিবারের পুরুষরা বিভিন্ন গ্রামে হাটে বাজারে ঘুরে ঘুরে সাপের খেলা, বানরের খেলা ও তাবিজ বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতো। কিন্তু শেরপুর জেলায় করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় প্রশাসন হাট-বাজারে লোক সমাগম নিষিদ্ধ করেছে। চলছে লকডাউনও। তাই এখন সাপের খেলা বা বানরের খেলা ও তাবিজ বিক্রির মজমা বসাতে পারছে না তারা। এতে তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। এ জন্য সাপের খাবারের অভাবে আটক সাপগুলোও মারা গেছে। ধরতে পারছে না নতুন সাপ। অনেক কষ্টের মধ্যেই আছে বেদেরা।

অপরদিকে বেদে পরিবারের মেয়েরাও গ্রামে গ্রামে ঘুরে ম্যাজিক খেলা দেখানো, কবিরাজী চিকিৎসা, তাবিজ বিক্রি করে আয় করে থাকেন। পুরুষ মহিলা মিলে যা আয় করে তা দিয়েই ভালভাবেই চলে তাদের সংসার। কিন্তু করোনার কারণে বাড়ী বাড়ী যেতে পারছে না তারা। ফলে আয়ও বন্ধ। বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে কোন রকমে বেঁচে আছে তারা। পাখি শিকার করে তার গোস্ত খাওয়াসহ নানাভাবে দিন চলছে তাদের।

এ ব্যাপারে বেদে সর্দার ফরহাদ হোসেন জানান, আমরা এখানে আসার পর থেকে লকডাউন, করোনাও বেশী কোথ্ওা মজমা বসাতে পারিনা। খাদ্যের অভাবে সাপ গুলোও মরে গেছে। নতুন করে সাপও ধরতে পারছিনা। সাপ খেলাও দেখাতে পারছি না। তাই আমরা খুব কষ্টে আছি।

সোহেল নামের এক বানর খেলা দেখানোর বেদে পল্লীর একজন যশোহর থেকে এসে ব্রক্ষপুত্র ব্রীজের পাশ্বেই থাকেন। তিনি বলেন, আমি হাটে বাজারে বানরের খেলা দেখিয়ে যা আয় রোজগার করি তাই দিয়ে সংসার চালাই। এহন তো কোন মজমা বসাবার পারিনা। এহন খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। কেউ তো আমাগো সাহায্যও দেয়না। এহন আমরা কি কইরা চলি।

বেদেনি মারুফা বলেন, আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরি আর ম্যাজিক খেলা দেখাই। কোমর হাটুর বিশ বেদনা সারানোর চিকিস্ওা করি। কিন্তু করোনার কারণে এহন আমাগো কেউ বাড়ীতেই ঢুকতে দিবার চায় না। এহন আমাগো কামাই বন্ধ। খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। হুনতাছি সরকার সবারেই সাহায্য করতাছে। আমাগো তো কোন সাহায্য করতাছে না।

আরেক বেদেনি রীনা বেগম বলেন, কি আর কমু, আমাগো দুঃখ দেহে কেডা। কত যে কষ্ট করতাছি। কেউ তো আমাগো সাহায্য করতাছে না। আমাগো তো কোন জাগা জমি নাই। যেহানে পারি সেহানেই তাহি। কামাই না অইলে খামু কি গো। মানুষ তো আমাগরে বাড়ি যাইবার দিবার চায়না। বাজারেও মজমা বসান যায়না। এহন আমরা কি করমু।  

শেরপুর সদর উপজলোর চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: আকবর আলী বলেন, আমরা এসব বেদে পরিবারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। কিন্তু তাদের জন্য কোন বরাদ্ধ না থাকায় আর্থিক সহায়তা করতে পারছিনা। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক স্যার আশ্বাস দিয়েছেন তাদের জন্য সাহায্যের একটা ব্যবস্থা করবেন।

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ফিরোজ আল মামুন জানান, এরা যাযাবর, বিভিন্ন স্থানেই তারা থাকে। এখন তারা খেলা দেখাতে ও তাবিজ বিক্রি করতে পারছে না। তাদের কষ্ট হচ্ছে বলে আমরা জেনেছি। তাদেরকে খাদ্য সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা বরাদ্ধেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের অংশ হচ্ছে বেদে পরিবারগুলো। নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে এসব বেদে পরিবারে ঐতিহ্য। বেদেদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন ধরনের ম্যাজিকসহ বানর নাচ ও সাপ খেলা দেখতে সবাই পছন্দ করে। তাই করোনার এ দূর্দিনে তাদের পাশ্বে দাড়ানোর জন্য আহ্বান সবারই।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি