নানার জন্য কেনা কাফনের কাপড়ে নাতির দাফন

সর্বমোট পঠিত : 121 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

নানা গুরুতর অসুস্থ থাকায় গত তিন সপ্তাহ আগে কাফনের কাপড় কিনে আনতে বলেছিল মিরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হিসামের মা। খালাতো ভাই কাপনের কাপড় কিনে দিলে, সেই কাপড় হিসাম নিয়ে আসেন বাড়িতে। বাড়িতে কাফনের কাপড় আনার কারণে হিসামকে বকাঝকা করে ছিল তার স্বজনরা। আর সেই নানার জন্য কিনে আনা কাফনেই দাফন হলো হিসাম।


নানা গুরুতর অসুস্থ থাকায় গত তিন সপ্তাহ আগে কাফনের কাপড় কিনে আনতে বলেছিল মিরসরাইয়ে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হিসামের মা। খালাতো ভাই কাপনের কাপড় কিনে দিলে, সেই কাপড় হিসাম নিয়ে আসেন বাড়িতে। বাড়িতে কাফনের কাপড় আনার কারণে হিসামকে বকাঝকা করে ছিল তার স্বজনরা। আর সেই নানার জন্য কিনে আনা কাফনেই দাফন হলো হিসাম।

এমন হৃদয় বিদারক ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন হিসামে চাচাতো ভাই জোরাইছ উদ্দিন। হিসামের অকালে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছেন জোরইছ। বয়সে বছর দুয়েকের বড় হলেও এক সঙ্গে বন্ধুর মত চলাফেরা তাদের। হিসামের পুরো পরিবার দেশের বাহিরে থাকায় সব কিছুতেই ছিল বন্ধুর মত পাশে থাকতো জোরাইছ।

জোরাইছ বলেন, হিসামের নানা বাড়ি রাউজানে। কিছু দিন আগে নানার বেশ অসুস্থ ছিল। মায়ের কথায় নানার জন্য কাফনের কাপড় কিনে রাখে সে। কিন্তু কাফনের কাপড় বাড়িতে আনায় সকলেই তাকে বকা দিয়েছে। কে জানতো এই কাফনেই দাফক হবে তার।

২০০৭ সালে হিসামের বাবার মৃত্যু পর থেকে তাকে দেখাশোনা করছিল চাচা আকবর হোসেন মানিক। গত তিন বছর আগে হিসামের মাও কানাডায় মেয়ের কাছে চলে যাওয়ার পর হিসামের পুরো দায়িত্বও যেন এসে পরে চাচার ওপর। তাইতো ভাতিজার পড়ার টেবিলে বসে আহাজারি করছিলেন চাচা।

চাচা আকবর হোসেন মানিক বলেন, হিসামকে তার মা আমার কাছে আমানত দিয়ে গেছে। এরপর থেকে হিসামই সারাক্ষণই আমার সঙ্গে থাকতো। মা, ভাই, বোন কেউ না থাকলেও কখনো উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করেনি। তার সবকিছু ছিল গোছানো। হিসামের এসএসসি পরীক্ষার পরে কানাডা চলে যাওয়ার কথা ছিলো। আমি তার মা ও ভাইকে এখন কি জবাব দিব?

তিনি আরও বলেন, ভাতিজার প্রাইভেট টিচার রাকিবের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার আবদার করাতে না করতে পারিনি। বাসা থেকে যাওয়ার আগে কি কাপড় পড়বে সেটিও জিজ্ঞেস করেছিলো আমাকে। খৈয়াছড়া পৌঁছে সকাল দশটার দিকে আমাকে কল দিয়েছে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি।

হিসামের আরেক চাচা মোহাম্মদ হোসেন বলেন, রেলের গেটম্যানের ফাঁসি চাই। তাকে ফাঁসি দিতে আমাদের যা কিছু আছে, তা যদি বিক্রিও করতে হয়, তাও করবো। আমাদের কোনো ক্ষতিপূরণের টাকার প্রয়োজন নেই। বরণ গেটম্যানের বিচারের জন্য আমরা টাকা খরচ করবো।

তিনি আরও বলেন, গতরাতে হিসামের মা কানাডা প্রবাসী জাহেদা বেগমকে জানানো হয়েছে। সেখানে তিনি কান্নাকাটি করছে, তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোন ভাষা আমরা পাচ্ছি না

হিসামের ভগ্নিপতি হাসান মাহমুদ বলেন, অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পরে ঢাকায় নিয়ে যায়। পরে ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করি। ঢাকার ভাষা ভালোভাবে বুঝতে পারতো না বলে ঢাকায় থাকতে চায়নি।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সময় তার পাশে থাকার জন্য চট্টগ্রামে চলে আসার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার জন্য না এসে জানাজা অংশ গ্রহণের জন্য আসতে হয়েছে। আমাদের কোনো দাবি নেই, একটা দাবি গেটম্যানের বিচার।

শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় কে এস নজু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জানাজা শেষে হিসামকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি