ডুবছে হাওরের ধান, কাঁদছেন কৃষাণী

ভাঙা বাঁধের পাশে কাটা ধানের স্তূপের কাছে বসে কাঁদছিলেন কৃষাণী আভা রানী দাস
সর্বমোট পঠিত : 32 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওরে ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে জানিয়ে বললেন, বাঁধ ঠেকানোর সর্বশেষ চেষ্টাও করা হবে। সকালে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা কেন হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বললেন, তখন পানির চাপ বেশি থাকায় পারা যায়নি।

সুনামগঞ্জের সব চেয়ে বড় হাওর ছায়ায় রোববার সকাল থেকে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে। দেখতে দেখতে ডুবে যাচ্ছে কৃষকের জমিতে থাকা পাকা ধান। একইসঙ্গে কেটে রাখা ধান, খড়খোটা সবই ডুবে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, হাওরের ধান কাটা ৯০ ভাগ শেষ।

কৃষকেরা বলেছেন, ধান কাটা ৫০-৬০ ভাগ শেষ হলেও অনেক কাটা ধান জমিতেই রয়ে গেছে। দিরাই, শাল্লা, নেত্রকোনার কালিয়াজুড়ি, মদন, কিশোরগঞ্জের ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার প্রায় চার লাখ কৃষক এই হাওরে জমি চাষাবাদ করেন।

শাল্লার মাউতির বাঁধ (৮১ নম্বর পিআইসি) ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হতে থাকলে হাওরজুড়ে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। কৃষকরা কাটা ধান, নাকি জমির পাকা ধান, না খড় তুলে আনবেন,  এ নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। কেউ কেউ কাটা ধানের স্তূপের পাশে বসে কাঁদতে থাকেন।

ভাঙা বাঁধের পাশে কাটা ধানের স্তূপের কাছে বসে কাঁদছিলেন কৃষাণী আভা রানী দাস। স্বামী কানন দাসের মাথায় ধান তুলে দিতে দিতে বললেন, ‘তারা খালি নিজের চিন্তা করে, বাঁধে লাখ লাখ টেকা রুজি কইরা সিলেট গিয়া বইয়া রইছে, অখন আমরার ধান পানিত ডুবছে। ২৫ কেয়ার (৮ একর এক কেয়ার) ধান করছিলাম। ৫ কেয়ার কাটছিলাম, অখন নিতাম পাররাম না, নিতে নিতে ইগুন ডুবি যাইব।’

পাশেই পানির নিচের ধান কাটছিলেন আফাজ মিয়া, সিরাজ উদ্দিন, মনির মিয়াসহ ধান কাটা শ্রমিকরা। এই শ্রমিকরা বললেন, বাঁধ ভাঙতে পারে না, তদারকি ও অবহেলায় বাঁধটি ভেঙে আমাদের সর্বনাশ হয়েছে।

বাঁধে দাঁড়ানো আঙ্গাউড়ার হিমেল সরকার বললেন, ভোর সাড়ে পাঁচটায় মোটরসাইকেলে যাত্রী নিয়ে কালিয়াজুড়ির কৃষ্ণপুরে যাচ্ছিলাম। বাঁধের নিচে বুরুঙ্গা দিয়ে পানি যাচ্ছে দেখে হাওরে থাকা কয়েকজন কৃষককে জানাই। কৃষকরা বাঁশ বস্তা ছাড়াই খর দিয়ে একঘণ্টা পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এরমধ্যেই বাঁধ ভেঙে যায়। পরে সকাল ৭ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে কিছুই করতে পারেননি।

এই বাঁধের পিআইসি সভাপতির হাওরে কোনো জমি নেই দাবি করে হিমেল বললেন, তাদের তদারকির অভাবে বাঁধ ভেঙেছে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের শাল্লার সভাপতি তরুন কান্তি দাসও তদারকির অভাবে বাঁধ ভেঙেছে দাবি করে তিনি বলেন, হাওরে ৭০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। তবে ২০ ভাগ কাটা ধান খেতে আছে। ৪৮ ঘণ্টায় পুরো হাওর ডুবে যাবে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওরে ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে জানিয়ে বললেন, বাঁধ ঠেকানোর সর্বশেষ চেষ্টাও করা হবে। সকালে বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা কেন হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব বললেন, তখন পানির চাপ বেশি থাকায় পারা যায়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এসএম শহীদুল ইসলাম বললেন, সকালে দায়িত্বশীলদের বাঁধ ঠেকানোর কাজ করতে কোনো বাধা ছিল না। কেন করলেন না, তারাই জবাব দিতে হবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি