শেরপুরে শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষতি

শেরপুরে শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষতি
সর্বমোট পঠিত : 52 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ভোর রাতের শিলাবৃষ্টিতে শেরপুরে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১শ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

শেরপুরে শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) ভোররাতে ধমকা হাওয়াসহ শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। আর এতে আধা পাকা ধান পড়ে যায়। এতে জেলাসদরসহ ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। বিপাকে পড়েছেন কয়েক হাজার কৃষক। জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, ভোর রাতের শিলাবৃষ্টিতে ১শ হেক্টর জমির বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধান কাটা ও ঘরে তোলার মৌসুমের শুরুর দিকে ধমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে সহস্রাধিক কৃষক বেকায়দায় পড়েছেন। নিচু এলাকায় বৃষ্টিতে ধান গাছ নুয়ে পড়ে তলিয়ে গেছে; শিলার আঘাতে ঝরে গেছে ধান। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সদর, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার উপজেলায়।

করোনার কারণে এমনিতেই কয়েক বছর ধরে নানা কারণে ধান আবাদে লোকসান লেগেই আছে। এর মধ্যে শিলাবৃষ্টিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পোষানো সম্ভব না। বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা

সদর উপজেলার চরশেরপুরের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, আমার এক একর জমির ধান ভোরে শিল পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। খুব দুঃশ্চিন্তায় আছি।

শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের কৃষক মফিল উদ্দিন বলেন, ঋণ করে চার একর জমিতে বোরো আবাদ করেছি। এক রাতেই সব শেষ আমার। সব ধান পড়ে গেছে, এখন বউ পুলাপাইন নিয়ে কী খামু চিন্তাই আছি।

একই গ্রামের কৃষক জুলহাস আলী বলেন, আমি ১০ কাঠা জমিতে আবাদ করি। এতে আমার পুরো বছরের খাওন চলে। আজ ভোরে সব ধান শিলায় পড়ে গেছে।

ওই ইউনিয়নের লংগর পাড়া গ্রামের কৃষক চাঁন মিয়া ঢাকা মেইলকে বলেন, সেহরির পরপরই হিল (শিল) পড়ে আমার এক কুর (এক একর) জমির সব ধান পইড়া গেছে। এহন বউ বাচ্চা নিয়ে কী খামু।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের সহযোগিতার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জন্য সরকার কিছু একটা ব্যবস্থা না করলে চলা মুশকিল হয়ে পড়বে। তাই আমরা সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছি।’

জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ভোর রাতের শিলাবৃষ্টিতে শেরপুরে বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। এতে প্রায় ১শ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।


মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি