সৈয়দপুরের ব্রহ্মত্তর ব্লকে গড়ে উঠেছে পারিবারিক পুষ্টিবাগান গ্রাম

সৈয়দপুরের ব্রহ্মত্তর ব্লকে গড়ে উঠেছে পারিবারিক পুষ্টিবাগান গ্রাম
সর্বমোট পঠিত : 60 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মমতা সাহা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত “ অনাবাদি পতিত ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান” প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের এ পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। আমরা প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, চারা ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি। কৃষক-কৃষাণীরা শুধু বাগানগুলোতে প্রাত্যহিক পরিচর্যা করছেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের ফলে পরিবারগুলোর নিরাপদ, মানসম্মত শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

মিজানুর রহমান মিলন সৈয়দপুর :
অনাবাদি জমি ও বাড়ির আঙ্গিনায় বেডে লাগানো হয়েছে নানা রকম শাক সবজি। জাংলায় বেড়ে উঠছে লাউ, শিম, করলাসহ বিভিন্ন  সব্জির গাছপালা। পাশে শোভা পাচ্ছে পুষ্টিকর হরেক রকম ফলমূলের গাছ।

সে সব পরিচর্যা করছেন কৃষক-
কৃষাণীরা। আর তাদের পরিবারিক পুষ্টি বাগানের বিষয়ে পাশে থেকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কৃষি ব্লকের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মমিনুর মোস্তফা জামান। এসব দৃশ্য চোখে পড়েছে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর ব্লকে স্থাপিত ৩৫টি পারিবারিক পুষ্টি বাগানে। এ সব বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূল কৃষক পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দুর হচ্ছে পুষ্টির অভাব। এছাড়াও পারিবারিক এসব থেকে উত্তোলন করা শাকসবজি বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তারা।

দেশের ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অব্যবহৃত না থাকে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে সারাদেশে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্প গ্রহন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ওই প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর উপজেলায় বেশ কিছু পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করা হয়।

এরমধ্যে কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর ব্লকেই স্থাপন করা হয় ৩৫ টি পারিবারিক পুষ্টি বাগান। এসব বাগানে লাগানো হয়েছে লাউ, কুমড়ো, বেগুন, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, শসা, ঝিঙা, পেঁয়াজ, রসুন, লালশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, পালংশাক, কলমি শাক, ধনিয়াপাতা প্রভূতি এছাড়াও রয়েছে আম, মাল্টা, পেঁপে, লেবুসহ হরেক রকম ফলের গাছও। এ সব পুষ্টি বাগানে রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষক-কৃষাণী  সংসারের অন্য সব কাজের পাশাপাশি এসব পুষ্টি বাগানের পরিচর্যা করে আসছেন। ইতোমধ্যে বাগানগুলোতে লাগানো শাকসবজি খাবার উপযোগীও হয়েছে। কৃষক-কৃষাণীরা পারিবারিক পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত নানা প্রকার শাকসবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন তারা।

গত রবিবার সরেজমিনে কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মত্তর দেওয়ানীপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, কৃষক সোহরাব হোসেন তাঁর বাড়ি সংলগ্ন পুষ্টিবাগানে শাকসবজি বেডে পানি দিচ্ছেন।  তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের পরামর্শে ও দিক নিদের্শনায় বাড়ি সংলগ্ন তাঁর দেড় শতক পতিত জমিতে পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলা হয়। এতে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও ফলের গাছের চারা লাগানো হয়েছে। বতর্মানে বাাগানে লাগানো সবজিগুলো খাবার উপযোগী হয়ে উঠেছে। আর উৎপাদিত এসব শাকসবজি পরিবারের  শাকসবজির চাহিদা পূরণসহ পুষ্টিরও অভাব দূর হচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদিত শাকসবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে কিছু পরিমাণ বিক্রি করে সংসারের আয় করছি।

একই ব্লকের কুতুপাড়ায় দেখা যায় কৃষক আমজাদ হোসেনের স্ত্রী নার্গিস আক্তার তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় স্থাপিত পারিবারিক পুষ্টিবাগানে পরিচর্যা করছেন। এ সময় সেখানে  তাঁর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আগে পরিবারের সদস্যদের দৈনন্দিন খাবারের জন্য বাজার থেকে শাকসবজি কিনে খেতে হতো। আর এখন আর তা করতে হচ্ছেনা। বাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগানে উৎপাদিত শাকসবজি  সে চাহিদা মেটাচ্ছে। এতে করে আমাদের পারিবারিক ব্যয়ও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। আমরা  বাগানে উৎপাদিত নিরাপদ খাবার খেতে পাচ্ছি। জানতে চাইলে উ -সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মমিনুর মোস্তফা জামান জানান, ব্রহ্মত্তর ব্লকে স্থাপন করা ৩৫টি পারিবারিক পুষ্টি বাগানে উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমুল পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণ করে কিছু শাকসবজি বিক্রি করতে পেরে তাদের সংসারের আয় বেড়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মমতা সাহা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত “ অনাবাদি পতিত ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান” প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের এ পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। আমরা প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, চারা ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করেছি। কৃষক-কৃষাণীরা শুধু বাগানগুলোতে প্রাত্যহিক পরিচর্যা করছেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের ফলে পরিবারগুলোর নিরাপদ, মানসম্মত শাকসবজি ও ফলমূলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি