সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনে মনের যত্নের অপরিহার্যতা : লুৎফুননেছা শান্তা

সর্বমোট পঠিত : 166 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

কর্মব্যস্ত এই দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত বা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের শারীরিক দক্ষতার সাথে সাথে প্রয়োজন হয় মানসিক সক্ষমতা বা মানসিক সুস্থ্যতা। একজন শারীরিকভাবে সুস্থ্য ব্যক্তি যখন পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে পারেন এবং পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারেন তখন তাকে মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলা হয়। মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে আমাদের মনের যত্ন দিতে হবে, মনের পরিচর্যা করতে হবে। মানব শরীরের ভিতরে মনের অবস্থান। তাই আমরা মনকে দেখতে পারি না, স্পর্শ করতে পারি না।

কর্মব্যস্ত এই দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত বা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের শারীরিক দক্ষতার সাথে সাথে প্রয়োজন হয় মানসিক সক্ষমতা বা মানসিক সুস্থ্যতা। একজন শারীরিকভাবে সুস্থ্য ব্যক্তি যখন পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উপভোগ করতে পারেন এবং পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে পারেন তখন তাকে মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলা হয়। মানসিক সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে আমাদের মনের যত্ন দিতে হবে, মনের পরিচর্যা করতে হবে। মানব শরীরের ভিতরে মনের অবস্থান। তাই আমরা মনকে দেখতে পারি না, স্পর্শ করতে পারি না।

আমরা আমাদের শরীর সম্পর্কে সচেতন। আমাদের দেহের কোন অংশ বা অঙ্গ-প্রতঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হলে তা সারিয়ে তোলার জন্য সচেষ্ট হই। কিন্তু আমরা কি আমাদের মনের খোঁজ নেই? বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আমাদের মন কতটা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে মনের ভিতর কতটা রক্তক্ষরণ হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা সচেতন নই। সম্প্রতি বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সিটিটিউট ও হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রন কর্মসূচির জরিপে দেখা যাচ্ছে, বর্তমান বাংলাদেশে মানসিক রোগির সংখ্যা দুই কোটি। যাদের অধিকাংশই নিজের মানসিক রোগ সম্পর্কে সচেতন নন।

সুস্থ্য স্বাভাবিক ও আনন্দময় জীবনের পূর্বশর্ত সুস্থ্য স্বাভাবিক মানসিক অবস্থা। যা আমরা সৃষ্টি করতে পারি মনের যতেœর মাধ্যমে। কর্মব্যস্ত জীবনের কিছুটা সময় হতে পারে ১০ থেকে ১৫ মিনিট প্রতিদিন নিজের জন্য ব্যয় করুন। নিজের মনকে প্রশ্ন করুন মন কি চায় ? কি করতে ভালো লাগে? কোন কাজটা করতে পারলে আত্মতৃপ্তি আসে, কোন কাজটা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে হয়। এই বিষয়গুলো নিজের মত করে সমন্বয় করতে হবে।

দায়িত্ব-কতর্ব্য ও আত্মত্যাগকে এক করে না দেখা। দায়বদ্ধতা থেকে দায়িত্ব কর্তব্য পালন করতে হয়। আর আত্মত্যাগ করতে পারলে সৃষ্টি হয় আত্মতৃপ্তি।

নিজেকে জানার চেষ্টা করা। নিজের দক্ষতা বা সক্ষমতার উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখা। নিজেকে ভালোবাসা ও সম্মান করা।
কোন কাজ ব্যর্থ হলে নিজেকে অর্কমন্য মনে না করা। ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় নিজের উপর চাপিয়ে আত্মগ্লানিতে না ভোগা।
আত্মসমালোচনা করা, নিজের ভুলত্রুটি স্বীকার করার মানসিকতা গড়ে তোলা এবং সংশোধনে উদ্যোগ নেওয়া।

বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে নানা রকম মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজের মনের অবস্থা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সাথে শেয়ার করা।

সঠিকভাবে আবেগ প্রকাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা। যেমন কোন তুচ্ছ ঘটনায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে ফেলা, আবার কোন বড় ঘটনার প্রেক্ষিতে কোন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ না করে নিজের আবেগকে জোর করে দমন করা।

পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের স্নেহ, ভালোবাসা, মমতা ও আবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
নিজের পছন্দের এমন কিছু কাজে ব্যস্ত থাকা যা ব্যক্তিকে আনন্দ দেয় ও আত্ববিশ্বাসী করে তোলে।

শরীর ও মনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নিয়মিত সুষম খাদ্য গ্রহণ ও শারীরিক ব্যায়াম শরীরের সাথে সাথে মন ও ভালো রাখে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে উঠে। সবকিছুর পজেটিভ দিকটা তার কাছে প্রকাশিত হয়। ফলে সহজেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিকূলতা ও সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে পারে এবং সমস্যা সমাধানে সফল হয়।

লেখক : মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী, বিএসসি (সম্মান), এমএসসি (মনোবিজ্ঞান), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি