যানযট নিরসনে শীঘ্রই সন্মিলিত ব্যবস্থা বলছে কর্তৃপক্ষ

যত্রতত্র পার্কিং ও অপরিকল্পিত স্ট্যান্ডে যানজটে ছয়লাপ বগুড়া শহর

যত্রতত্র পার্কিং ও অপরিকল্পিত স্ট্যান্ডে যানজটে ছয়লাপ বগুড়া শহর
সর্বমোট পঠিত : 68 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

বিআরটিএ বগুড়ার মোটরযান পরিদর্শক এস.এম সবুজের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বগুড়া শহরে চলাচলকারী আনুমানিক ৬ হাজার সিএনজি’র রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে বাকিগুলো আইনের ভাষায় অবৈধ যানবাহন। এদিকে শহরে যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার বেপোরোয়া চলাচল যাদের অতিদ্রুত একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন আর এ কাজে সবচেয়ে আন্তরিকতার প্রয়োজন বগুড়া পৌরসভার। শুধু তাই নয় তারা যে গতিতে রিক্সা চালাই তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তারপরেও বগুড়ার এই আপামর জনগণের সমস্যা সমাধানে সন্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সঞ্জু রায়: সাজানো গোছানো একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে বগুড়া সারাদেশেই পরিচিত। যে কারণে অন্যান্য জেলার বাসিন্দারাও খুব সাবলীলভাবে এই শহরে গড়ে তোলেন নিজেদের স্থায়ী নিবাস। কিন্তু বর্তমানে বদলে গেছে এই শহরের চিত্র! দিনে-রাতে চুরি, ছিনতাই, চাকু মারামারি, ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে খুনসহ নানা সমস্যায় এই শহরের বাসিন্দারা বর্তমানে অপ্রকাশ্য এক কষ্টে রয়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে যানজটের মতো ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখলে শহরজুড়ে দেখতে পাওয়া যাবে, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বারখ্যাত এই জেলায় যানচলাচলে নেই কোন শৃঙ্খলার বালাই। যে যার মতো চাইলেই যেখানে সেখানে করতে পারে অবৈধ পার্কিং। আবার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সড়কের উপর চাইলেই করা যায় যানবাহনের স্থায়ী স্ট্যান্ড। পুরো জেলার অধিকাংশ মানুষের কর্মের ঠিকানা যখন এই বগুড়া শহর তখন এত বিশাল জনসংখ্যার মানুষের চলাচলের জন্যেও ফাঁকা নেই শহরের কোন ফুঁটপাত। সব ভাসমান দোকানদারদের দখলে। ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ও রেজিষ্ট্রেশনবিহীন গাড়ির দাপট, যত্রতত্র পার্কিং ও অপরিকল্পিত যানবাহনের স্ট্যান্ডের কারণে যানজটে বর্তমানে ছয়লাপ বগুড়া শহর। যে কারণে জনভোগান্তি এখন চরমে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ার সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার সিএনজি ও মিনি লোকাল বাস যাদের অধিকাংশরই নেই রেজিষ্ট্রেশন। আবার রেজিষ্ট্রেশন থাকলেও নেই গাড়ির ফিটনেস, রুট পারমিট অথবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যদি বা থাকেও তা মেয়াদোর্ত্তীণ। আবার না থাকলেই বা কি? প্রত্যেকজনই কোন কোন নেতার কর্মী কিংবা নিজেরাই শ্রমিক নেতা! এদিকে ফোঁড়ের উপর বিষফোঁড় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা যাদের রেজিষ্ট্রেশন কিংবা চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে এখন পর্যন্ত নেই কোন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। যার ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে এই যানবাহনের সংখ্যা যাতে বর্তমানে বগুড়ায় সামগ্রিক অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক ছাড়িয়ে গেছে। যদিও দিনশেষে ট্রাফিক বিভাগ সবচেয়ে বেশি শুধু মোটরসাইকেল চালকদের উপরেই তাদের আইনের ছড়ি ঘোরাই মর্মে অনেকেই আক্ষেপ করেছেন।
বিআরটিএ বগুড়ার মোটরযান পরিদর্শক এস.এম সবুজের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বগুড়া শহরে চলাচলকারী আনুমানিক ৬ হাজার সিএনজি’র রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে বাকিগুলো আইনের ভাষায় অবৈধ যানবাহন। এদিকে শহরে যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার বেপোরোয়া চলাচল যাদের অতিদ্রুত একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন আর এ কাজে সবচেয়ে আন্তরিকতার প্রয়োজন বগুড়া পৌরসভার। শুধু তাই নয় তারা যে গতিতে রিক্সা চালাই তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও প্রয়োজন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তারপরেও বগুড়ার এই আপামর জনগণের সমস্যা সমাধানে সন্মিলিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।   
আবার যানজটের অন্যতম কারণ বগুড়া শহরের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া রেলরাইন যা সমাধান দীর্ঘমেয়াদী হলেও সমাধানযোগ্য সমস্যা হলো প্রধান সড়কের উপরে থাকা বেশ কয়েকটি স্থায়ী ও অস্থায়ী যানবাহনের স্ট্যান্ড। যাদের মাঝে ইয়াকুবিয়া মোড়, দত্তবাড়ি, সাতানি বাড়ি সংলগ্ন সড়ক, বড়গোলা, পার্ক রোড, চেলোপাড়া, চারমাথা, মাটিডালি, সাবগ্রাম, চকযাদু রোড অন্যতম স্ট্যান্ড যেগুলোর মাঝে যানজট লাগার পিছনে ইয়াকুবিয়া মোড় ও দত্তবাড়ি স্ট্যান্ডের যানবাহনের বিশৃঙ্খলা আবার কিছু স্ট্যান্ডের যানবাহনের ট্রাফিক আইন ভাঙ্গার প্রতিযোগিতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ জনগণের। অপরিকল্পিত স্ট্যান্ডের বিষয়ে দ্রুততম সময়ে কার্যকরী একটি পদক্ষেপ নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সাধারণ জনগণ।
এদিকে গত ৩ দিন টানা বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে চোখ রাখলে দেখা যায়, মোটর সাইকেল ও রিক্সার অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের মাধ্যমে এ সড়কের অর্ধেক রাস্তায় ব্লক। পার্কিং করা বেশিরভাগ মোটরসাইকেলই ওষুধ কোম্পানীর বিভিন্ন রিপ্রেজেনটিভদের। মাঝে মাঝে বগুড়া জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে ট্রাফিক বিভাগ অভিযান পরিচালনা করলেও সত্যি বলতে বগুড়া শহরেও নেই পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা তাই জনগণেরও হয়েছে কূল-কিনারা না পাওয়ার মতো অবস্থা। আবার ফুটপাতে থাকা অধিকাংশ দোকানীরাই পৌরসভার কিছু নির্দিষ্ট লোককে ম্যানেজ করে এবং প্রভাবশালী বিভিন্নজনকে চাঁদা দিয়ে স্বল্প পুঁজির ব্যবসা করে। একদিকে এই গরীব মানুষের পেট অন্যদিকে সড়কের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কে দেবে তাদের একটি সুষ্ঠু স্থান কিংবা পরিকল্পনা? যদিও বা মাঝে প্রশাসনের তৎপরতায় অনেক ভাসমান দোকানীরাই নিয়েছে নিজেদের স্থায়ী দোকান যা ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি সূচনা।
ফুঁটপাত দখলমুক্তকরণ প্রসঙ্গে বগুড়া সদর সার্কেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ফুঁটপাত দখলমুক্তকরণে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে যার তৎপরতা আরো বাড়ানো হবে।
বগুড়া শহরের যানজটের এমন ভোগান্তিময় চিত্র প্রসঙ্গে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ট্রাফিক বিভাগের স্বল্প জনবল নিয়ে তারা নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও শহরে যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম কমাতে তাদের বাধ্যতামূলক একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও বগুড়া পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষরাও তাদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সন্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিদ্রুত যানজট নিরসনে শহরে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।



মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি