থামানো যাচ্ছে না নতুন অটোরিক্সার উৎপাদন, দেখার কি কেউ আছে?

তীব্র যানজট ও হর্ণের শব্দে নাকাল বগুড়া পৌরবাসী!

তীব্র যানজট ও হর্ণের শব্দে নাকাল বগুড়া পৌরবাসী!
সর্বমোট পঠিত : 50 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

বগুড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে রবিবার ও সোমবার সারাদিন সরেজমিনে খেয়াল করে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন: সাতমাথা, থানা মোড়, বড়গোলা, কাঁঠালতলা, ফতেহআলী মোড়, জলেশ্বরীতলা, চেলোপাড়া, কলোনী, খান্দার, তিনমাথা, চারমাথা, শহরের ১ নং রেলগেট, চকযাদু রোডসহ প্রায় সর্বত্রই যানজটে একদম বেহাল অবস্থা জনগণের। শুধু ব্যাটারিচালিত এবং সিএনজি অটোরিক্সার দাপট। পায়ে হেঁটে ১০মিটার যাওয়ার ক্ষমতাও নেই পথচারীদের। ফুটপাত পুরোপুরি দোকানদের দখলে। আর চর্তুদিক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার হর্ণের শব্দে পথচারীদের কান ঝালাপালা। এই শহরকে দেখে বাইরের যে কেউ এসে মনে করবে কোন আজব এক শহরে সে এসেছে। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, ট্রাফিক পুলিশে জনবল কম থাকা সাথে যে কয়জন দায়িত্বরত আছেন তাদের অনেকের মাঝেই দায়িত্বপালনে আন্তরিকতার অভাব, সময় অসময়ে বড় বড় গাড়ির শহরে প্রবেশ, শহরের বিভিন্ন সড়কের খানাখন্দসহ নানাবিধ সমস্যায় যানজটের এই ভোগান্তি আজ চরমে।

বগুড়ায় শহরজুড়ে তীব্র যানজট এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার অসহনীয় হর্ণের শব্দে পৌরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। যানজট সমাধানে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বারংবার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরগুলোর মাঝে সমন্বয়হীনতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতিতার জন্যে আজও দেখা যাচ্ছে না কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষণ। এদিকে বগুড়ার অলিগলিতে অবৈধ পন্থায় প্রতিদিন নতুন করে তৈরি হচ্ছে আনুমানিক ২ শতার্ধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা যার উৎপাদন ও বিক্রয় বন্ধেও প্রশাসনের নেই কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ কিংবা পদক্ষেপ। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকার পরে বগুড়াও পরিণত হতে যাচ্ছে যানজটের শহর হিসেবে। এই সমস্যা এমন গুরুতর পর্যায়ে আসার পরেও সত্যিকার অর্থেও দেখার কি কেউ আছে? এমন প্রশ্ন বগুড়ার আপামর সাধারণ জনগণের...!

বগুড়া শহরের বিভিন্ন সড়কে রবিবার ও সোমবার সারাদিন সরেজমিনে খেয়াল করে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন: সাতমাথা, থানা মোড়, বড়গোলা, কাঁঠালতলা, ফতেহআলী মোড়, জলেশ্বরীতলা, চেলোপাড়া, কলোনী, খান্দার, তিনমাথা, চারমাথা, শহরের ১ নং রেলগেট, চকযাদু রোডসহ প্রায় সর্বত্রই যানজটে একদম বেহাল অবস্থা জনগণের। শুধু ব্যাটারিচালিত এবং সিএনজি অটোরিক্সার দাপট। পায়ে হেঁটে ১০মিটার যাওয়ার ক্ষমতাও নেই পথচারীদের। ফুটপাত পুরোপুরি দোকানদের দখলে। আর চর্তুদিক থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার হর্ণের শব্দে পথচারীদের কান ঝালাপালা। এই শহরকে দেখে বাইরের যে কেউ এসে মনে করবে কোন আজব এক শহরে সে এসেছে। যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, ট্রাফিক পুলিশে জনবল কম থাকা সাথে যে কয়জন দায়িত্বরত আছেন তাদের অনেকের মাঝেই দায়িত্বপালনে আন্তরিকতার অভাব, সময় অসময়ে বড় বড় গাড়ির শহরে প্রবেশ, শহরের বিভিন্ন সড়কের খানাখন্দসহ নানাবিধ সমস্যায় যানজটের এই ভোগান্তি আজ চরমে।    

অথচ পাশাপাশি যদি আমরা রাজশাহীর উদাহরণ টানতে চাই তবে একথা নি:সন্দেহে বলা চলে উত্তরবঙ্গের সবচাইতে সাজানো গোছানো এবং পরিচ্ছন্ন একটি শহর রাজশাহী যেখানে মানুষ আর যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে না। রাতারাতি এই পরিবর্তন আসেনি। সন্মিলিতভাবে রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গোটা দেশের জন্যে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তবে ঐতিহাসিক পুন্ড্রবর্ধন নগরীর আড়াই হাজার বছরের সভ্যতা নিয়ে গড়ে ওঠা বগুড়া কেন একটি যানজটমুক্ত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে উঠছে না? এর জন্য কাদের এগিয়ে আসা উচিত? কে এই সমস্যার সমাধান দিয়ে বগুড়াবাসীকে রক্ষা করার জন্যে এগিয়ে আসবেন এমন প্রশ্ন এখন বগুড়াবাসীর মুখে মুখে ফিরছে। তবে কি আমরা আরও অধপতনের দিকে এগিয়ে যাব? নাকি একটি আধুনিক শহর উপহার দেবেন বগুড়ার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন? হাজারো প্রশ্ন বগুড়ার মানুষের কিন্তু উত্তর দেবার লোক কোথায়?

আসল উদ্যোগ কে নেবে? পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ নাকি আসবে কোন সন্মিলিত সিদ্ধান্ত? আমরা সরেজমিন বগুড়া শহর ঘুরে প্রথমে কথা বলেছিলাম বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা’র সাথে। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা যেভাবে প্রতিদিন অবৈধভাবে উৎপাদন হচ্ছে তাতে আগামী ৫ বছরে বগুড়া শহর সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে যাবে। অটোরিক্সা প্রসঙ্গে একটি সুষ্ঠু সমাধানের আশায় তিনি বারংবার সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন কিন্তু এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যানজট নিরসনে বগুড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার দৌরাত্ম কমাতে করণীয় নিয়ে তারা অনেকটাই অগ্রসর হয়েছেন এবং সর্বশেষ গত রবিবার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও এটি নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে মর্মে জানান পৌর মেয়র বাদশা।

এ প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বিপিএম এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, ট্রাফিক বিভাগের স্বল্প জনবল নিয়েও তারা বগুড়ার মতো এমন ব্যস্ততম শহরে নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু যানজট এবং শহরজুড়ে ব্যাটাারিচালিত অটোরিক্সাসহ অবৈধ যানবাহনের যে দৌরাত্ম তা জেলা পুলিশের পক্ষে একা সমাধান সম্ভব নয় এর জন্যে সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বগুড়া জেলা প্রশাসক ও মেয়রের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে যানজট এর সমস্যা সমাধানে বেশকিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জানুয়ারী মাসের মধ্যেই পরিবহন নেতা, জনপ্রতিনিধি, দায়িত্বশীল মহলের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে শহরে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগকেও কিছুটা ঢেলে সাজানোর মাধ্যমে আরও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার কথা বলেন জেলা পুলিশের এই কর্ণধার।

এদিকে এই একই প্রসঙ্গে মুঠোফোনে বগুড়া জেলা প্রশাসক মো: জিয়াউল হকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বগুড়া শহরের প্রতিদিনের এই যানজট এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাগুলোকে কিভাবে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় সেই লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মাঝেই জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং বগুড়া পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সন্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এবং তা বাস্তবায়নও করা হবে। একই সাথে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধসহ ট্রাফিক আইনকানুন মেনে চলার ব্যাপারে তিনি সাধারণ জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি