সাত মাস দেরিতে পরীক্ষায় বসলো এইচএসসির ১৪ লাখ শিক্ষার্থী

রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষারা।
সর্বমোট পঠিত : 56 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

প্রতি বছরের এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার সাত মাস পর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্য বছর পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল দেওয়া হলেও এবার এক মাস পর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২১ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সনদ (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পরীক্ষা। সকাল সাড়ে ৯টায় সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

প্রতি বছরের এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার সাত মাস পর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যান্য বছর পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল দেওয়া হলেও এবার এক মাস পর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আগের মতো ১২টি বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে না এবার। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে গ্রুপভিত্তিক তিনটি নৈর্বচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোতে এবার পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এই বিষয়গুলোর নম্বর আগের পাবলিক পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।  
পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টার পরিবর্তে দেড় ঘণ্টা। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় বেশি পাচ্ছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষায় সারাদেশে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯০ জন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির তথ্যমতে, এবার সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে শুধু এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭ জন, যাদের ৫ লাখ ৬৩ হাজার ১১৩ জন ছাত্র ও ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৯০৪ জন ছাত্রী। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১৪৪ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬১ হাজার ৭৩৮ জন; ছাত্রী ৫১ হাজার ৪০৬ জন। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) পরীক্ষা দিচ্ছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫২৯ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৪ হাজার ৮২৭ জন; ছাত্রী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন।

এইচএসসি পরীক্ষার কারণে গত ২৫ নভেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর তত্ত্বীয় বিষয়ে পরীক্ষা আগামীকাল ২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ৩০ ডিসেম্বর। একই দিন শুরু হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৮ ডিসেম্বর। এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ৯ হাজার ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবেন ২ হাজার ৬২১টি কেন্দ্রে। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫২ জন। গতবারের তুলনায় মোট পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৩ হাজার ৮৭৫ জন। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১২০টি এবং কেন্দ্র বেড়েছে ২০টি। বিদেশের ৮টি কেন্দ্রের মোট পরীক্ষার্থী ৪০৬ জন। এর মধ্যে জেদ্দায় ১১৪, রিয়াদে ৭৪, ত্রিপোলিতে ২, দোহায় ৭৯, আবুধাবিতে ৩৪, দুবাইয়ে ২৬, বাহরাইনে ৫৮ এবং ওমানের সাহামে ১৯ জন পরীক্ষা দিচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যাই বলা থাকুক, শিক্ষা বোর্ডের নম্বর ও সময় বিভাজন নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এমসিকিউ ২৫টির মধ্যে ১২টির এবং রচনামূলক আটটি প্রশ্নের মধ্যে দুটির উত্তর লিখতে হবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে এই পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে সব পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন নিতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পর পরীক্ষাকেন্দ্রে এলে রেজিস্ট্রারে নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময় ও দেরির কারণ উল্লেখ করতে হবে। দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাবে। অনিবার্য কারণবশত কোনো পরীক্ষা দেরিতে শুরু করতে হলে যত মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হবে, পরীক্ষার্থীদের সে সময় থেকে যথারীতি প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় দিতে হবে। একজনের বেশি অভিভাবক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কেন্দ্রে আসতে পারবেন না।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি