শেরপুরের শ্রীবরদীতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা: তিনজন গ্রেপ্তার

শেরপুরের শ্রীবরদীতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা: তিনজন গ্রেপ্তার
সর্বমোট পঠিত : 304 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

শ্রীবরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাশিম বুধবার সকালে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের নামে উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো এক-দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৩০ ধারা ও দ-বিধির ৫০৬ ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বুধবার জেলা সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক গৃহবধূকে (২০) গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার লঙ্গরপাড়া গ্রামের মো. কামরুজ্জামান (২৩) ও শফিকুল ইসলাম (২৭) এবং জামালপুরের দেউরপাড়া গ্রামের আয়নাল হক (৫০)। গ্রেপ্তার আয়নাল উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শ্রীবরদী থানায় মামলা করেন। এরপর শ্রীবরদী থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করেন। গত সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। তাঁর বাবার বাড়ি শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজীরচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে। কয়েক দিন আগে ওই গৃহবধূ তাঁর বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।  কিছুদিন আগে ভুক্তভোগী গৃহবধূর কাছ থেকে তাঁর বাড়ির পার্শ্ববর্তী গ্রামের যুবক গ্রেপ্তার কামরুজ্জামান ১ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। গত সোমবার দুপুরে ওই গৃহবধূ কামরুজ্জামানের কাছে তাঁর পাওনা টাকা চান। এরপর কামরুজ্জামান টাকা নেওয়ার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার একটি বাজারে আসতে বলেন। সোমবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ ওই বাজারে যান। এ সময় টাকা দেওয়ার কথা বলে কামরুজ্জামান ও তাঁর সহযোগী শফিকুল ইসলাম গৃহবধূকে বাজারসংলগ্ন একটি বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে গেলে নৈশ প্রহরী আয়নাল হক বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক খুলে দেন এবং ওই দুই যুবকের পরামর্শ অনুযায়ী গৃহবধূকে বিদ্যালয়ের চারতলা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে সোমবার রাত দশটার দিকে কামরুজ্জামান, শফিকুল ও নৈশ প্রহরী আয়নাল জোরপূর্বক পালাক্রমে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন।

এক পর্যায়ে তাঁরা ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন এবং এ ঘটনার কথা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দেন। পরে ভুক্তভোগী তাঁর বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং অভিভাবকদের কাছে ধর্ষণের ঘটনাটি জানান। পরে অভিভাবকদের সহায়তায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায়   ভুক্তভোগী গৃহবধূ শ্রীবরদী থানায় এসে পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

শ্রীবরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাশিম বুধবার সকালে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের নামে উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো এক-দুইজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের  ৯(৩)/৩০ ধারা ও দ-বিধির ৫০৬ ধারায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বুধবার জেলা সদর হাসপাতালে ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে থানা হেফাজতে আটক থাকায় এ বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি