শেষ বলে বাংলাদেশের হার

বাংলাদেশের হার
সর্বমোট পঠিত : 31 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ৮ রান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই বোলিং করতে আসলেন টাইগার অধিনায়ক। শুরুর দুই বলেই তুলে নিলেন দুই অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার সরফরাজ ও হায়দার আলীকে। এরপর হ্যাটট্রিক বলে খেয়ে বসলেন ছক্কা। পরের বলেই তুলে নিলেন আরেকটি উইকেট। তখন বাংলাদেশও জয়ের আশা দেখলো। শেষ বলে দরকার দুই রান। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বল ছোড়ার পর দুই হাত তুলে বল ছেড়ে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। আম্পায়ারের অনেক পেছন থেকে বল ডেলিভারি করেন বাংলাদেশি বোলার। বল স্টাম্পে আঘাত করলেও তা অবৈধ ঘোষণা হয়। শেষ বলে চার মারেন নওয়াজ। এই বিতর্ক ও নাটকীয়তায় বাংলাদেশেরই হারেই শেষ হলো গল্প।

টি-টোয়েন্টিতে নতুন শুরুর প্রথম সিরিজেই মুখ থুবড়ে পড়লো টাইগাররা। টানা তিন ম্যাচ হেরে ঘরের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেল স্বাগতিক বাংলাদেশ। তৃতীয় ম্যাচ জিততে শেষ বল পর্যন্ত পাকিস্তানকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু নাটকীয় শেষ ওভারে শেষ বলে ৫ উইকেটে হেরে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এই সিরিজ জিতে টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হল পাকিস্তান।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিলো ৮ রান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেই বোলিং করতে আসলেন টাইগার অধিনায়ক। শুরুর দুই বলেই তুলে নিলেন দুই অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার সরফরাজ ও হায়দার আলীকে। এরপর হ্যাটট্রিক বলে খেয়ে বসলেন ছক্কা। পরের বলেই তুলে নিলেন আরেকটি উইকেট। তখন বাংলাদেশও জয়ের আশা দেখলো। শেষ বলে দরকার দুই রান। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ বল ছোড়ার পর দুই হাত তুলে বল ছেড়ে দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। আম্পায়ারের অনেক পেছন থেকে বল ডেলিভারি করেন বাংলাদেশি বোলার। বল স্টাম্পে আঘাত করলেও তা অবৈধ ঘোষণা হয়। শেষ বলে চার মারেন নওয়াজ। এই বিতর্ক ও নাটকীয়তায় বাংলাদেশেরই হারেই শেষ হলো গল্প।

প্রথম দুই ম্যাচের মত তৃতীয় ম্যাচেও বড় সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১২৪ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে স্পিনার মেহেদী হাসানকে দিয়ে বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই সাবধানী খেলে যাচ্ছেন দুই ওপেনার বাবর আজম ও রিজওয়ান। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে সফরকারীদের সংগ্রহ ২৮ রান।

প্রথম ওভারে ৩ রান দিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। ষষ্ঠ ওভারে আবার হাতে নিলেন বল। বাবর আজমের শট ঠেকাতে গিয়ে ডান হাতে আঘাত পান এই পেসার। মাত্র ১.১ ওভার বল করে ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফিজিওর সঙ্গে। ওই ওভারটি পূরণ করেছেন শহীদুল ইসলাম।

সপ্তম ওভারে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। আমিনুল ইসলাম বিপ্লব প্রথম ওভার হাতে নিয়ে ফেরান বাবর আজমকে। বাংলাদেশি স্পিনারের বলে নাঈমকে ক্যাচ দেন সফরকারী অধিনায়ক। ২৫ বলে ১৯ রান করেন বাবর।

ষষ্ঠ ওভারের চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তাসকিন। হাতের ব্যথা ভুলে আবার মাঠে নেমে ১১তম ওভারে বোলিং করেছেন। এই ওভারে দিলেন ৯ রান। বাবর আজমের বিদায়ের পর মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হায়দার আলি সামাল দেন পাকিস্তানকে। দলীয় ৮৩ রানে অভিষিক্ত শহীদুল ইসলামের বলে বোল্ড হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৪৩ বলে ৪০ রান করে ফিরেন পাকিস্তানি ওপেনার।

এর আগে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটিংয়ে নামার শুরু থেকেই নড়বড়ে টাইগার দুই ওপেনার। সাইফ বাদ যাওয়ায় এই ম্যাচে নাঈমের সঙ্গী হয়েছে আগের ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করা শান্তর। কিন্তু শেষ ম্যাচে পুরোপুরি ব্যর্থ টাইগার এই ব্যাটসম্যান। ৫ বলে ৫ রান করে শাহনওয়াজ দাহানির ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফিরলেন শান্ত। অভিষেকে বল হাতে নিয়েই উইকেট পেলেন শাহনওয়াজ দাহানি।

শান্তর বিদায়ের পর মাঠে নেমেই দাহানিকে চার মারেন শামীম হোসেন। মোহাম্মদ নাঈমের সঙ্গে ক্রিজ আঁকড়ে থেকে নিয়মিত বিরতিতে রান ওঠানোর চেষ্টায় ছিলেন তিনি। চতুর্থ ওভারে দাহানিকে টানা দুটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারলেন না শামীম। উসমান কাদির বল হাতে নিয়েই তাকে ফেরান। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে শামীম সহজ ক্যাচ দেন ইফতিখার আহমেদকে। ২৩ বলে ২২ রান করেন টাইগার এই ব্যাটার।

দলীয় ১১১ রানে ওয়াসিমের বলে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার নাঈম। শুরু থেকেই দলের হাল ধরেছেন তিনি। কিন্তু ৫০ বল মোকাবেলা করেও ব্যক্তিগত অর্ধশতক হাঁকাতে পারেননি তিনি। ৪৭ রানে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন নাঈম।

রানের গতি বাড়াতে যেয়ে আউট হন নুরুল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। নুরুল ৪ ও মাহমুদুল্লাহ ১৩ রান করে আউট হন। সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ১২৫ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করতে ৭ উইকেটে ১২৪ রান বোর্ডে জমা করে স্বাগতিক দল। সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে নাঈমের ব্যাট থেকে।

পাকিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন উসমান কাদির এবং মোহাম্মদ ওয়াসিম। একটি করে উইকেট নেন শাহনেওয়াজ দাহানি ও হারিস রউফ।

বাংলাদেশ দল শেষ ম্যাচে তিনটি পরিবর্তন এনেছে একাদশে। মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান বাদ পড়েছেন। অভিষেক হয়েছে শহীদুল ইসলামের। এছাড়া দলে ঢুকেছেন শামীম হোসেন ও নাসুম আহমেদ। পাকিস্তান দলেও একজনের অভিষেক হয়েছে। শাহনওয়াজ দাহানি ৯৫তম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত হলেন। বাবর আজমের দলে বদল চারটি। উইকেটকিপার সরফরাজ, অফ স্পিনার ইফতিখার, লেগ স্পিনার উসমান কাদির ও দাহানি ঢুকেছেন দলে।

বিশ্বকাপ ও পাকিস্তান সিরিজ মিলিয়ে শর্টার ফরম্যাটে টানা আট ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে টানা আট টি-টোয়েন্টি হারে টাইগাররা। আজ সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে মাহমুদউল্লাহর দল। এটি বাংলাদেশের টানা হারের রেকর্ড নয়। ২০০৭-২০১০ মৌসুমে টানা ১২ টি-টোয়েন্টিতে হেরেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ একাদশ:

নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, নুরুল হাসান, আফিফ হোসেন, শামীম পাটোয়ারী, মেহেদী হাসান, আমিনুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও নাসুম আহমেদ।

পাকিস্তান দল:

বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, হায়দার আলী, সরফরাজ আহমেদ, খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদ, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম, উসমান কাদির, হারিস রউফ ও শাহনেওয়াজ দাহানি।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি