ভয়কে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় শেরপুররে ছেলে মানিক

শেরপুরে আফছর আলী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে মো. মানিক।
সর্বমোট পঠিত : 78 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

সাত বছর বয়সে মানিককে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর পাকুরিয়া ইউনিয়নের পুঁটিজানা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সে। ২০১৮ সালে জিপিএ-২.৭৫ পেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে। আর এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকেই মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মানিক।

ছোটবেলা থেকে মো. মানিক অটিজমে আক্রান্ত। সে সবকিছুতে ভীষণ ভয় পায়। মনে রাখতে পারে না অনেক কিছুই। কিন্তু সব বাধা ও ভয়কে জয় করে এবার সে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। অন্য  পরীক্ষার্থীর মতো সে নিজেই খাতায় উত্তর লিখছে।

শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের পুঁটিজানা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মানিক। তাঁর এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র শেরপুরের আফছর আলী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়।

মানিক শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া ইউনিয়নের তারাগড় নামাপাড়া গ্রামের মো. জয়নাল ও মাজেদা বেগমের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। তার জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি। চার বছর বয়স পর্যন্ত সে হাঁটতে বা দাঁড়াতে পারেনি। অল্প অল্প কথা বলত। সেটাও ছিল অনেকটা অস্পষ্ট। শেরপুর সদর হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয় মানিককে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘদিন ওষুধ সেবন ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে মানিকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হয়। আস্তে আস্তে দাঁড়াতে ও হাঁটতে শিখে সে। তবে সমবয়সীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে মানিক।

মানিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের আরও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

সাত বছর বয়সে মানিককে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার পর পাকুরিয়া ইউনিয়নের পুঁটিজানা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সে। ২০১৮ সালে জিপিএ-২.৭৫ পেয়ে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে। আর এ বছর ওই বিদ্যালয় থেকেই মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মানিক।

গতকাল সোমবার আফছর আলী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, একটি বেঞ্চে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখছে মানিক। প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী হিসেবে নির্ধারিত সময় দেড় ঘণ্টার চেয়ে ২০ মিনিট সময় বেশি পাচ্ছে সে।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় মানিকের সঙ্গে। মানিক বলে, ‘ভালোভাবে পড়ালেখা করেছি। আশা করি ভালো ফল পাব। লেখাপড়া শিখে ভালো মানুষ হতে চাই।’

আফছর আলী আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী কেন্দ্রসচিব জাকির হোসেন বলেন, সমাজে অনেক ভালো ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া বাদ দিয়ে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। অথচ মানিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের শিক্ষার্থীদের আরও সহযোগিতা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

মানিকের বাবা মো. জয়নাল দরিদ্র কৃষক। কোনো রকমে সংসার চলে। অভাবের মধ্যেও মানিকের চিকিৎসা ও পড়ালেখা অব্যাহত রেখেছেন। মানিক বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রতি মাসে ৭০০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে।

মানিকের বাবা মো. জয়নাল বলেন, অন্য শিশুদের মতো মানিক হইচই ও খেলাধুলা করে না। কথা কম বলে। সবকিছুতেই তার মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। অনেক কিছুই মনে রাখতে পারে না। তবে গাছের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা আছে। পড়ালেখার ফাঁকে সে গাছে পানি দেয়। গরু-ছাগলের হাত থেকে গাছ বাঁচাতে বাঁশ দিয়ে নিজেই খাঁচা তৈরি করেছে। এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারলে ছেলেকে কলেজে ভর্তি করাবেন।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি