পরিবারের দাবী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় যেন তার ভর্তির সুযোগ হয়

পা দিয়ে লিখে ঢাবি”র ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া শেরপুরের সুরাইয়ার ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ হলো না

পা দিয়ে লিখে ঢাবি”র ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া শেরপুরের সুরাইয়া
সর্বমোট পঠিত : 240 বার
জুম ইন জুম আউট পরে পড়ুন প্রিন্ট

প্রতিবন্ধী ছুরাইয়ার স্বপ্ন, সে ভবিষ্যতে প্রথম শ্রেণীর অফিসার হবে। স্বপ পুরনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ”খ” ইউনিটে অংশ নিয়েছিলো এবছর। দু পায়ে লিখে পরীক্ষা দেয়ায় সবার নজরেও এসছিলা সে। শুধু তাই নয় দুই পায়ে মোবাইল ব্যবহারসহ সব ধরনের কাজ করে থাকে ছুরাইয়া।

পা দিয়ে লিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ করে নিতে চেয়েছিলেন শেরপুরের প্রতিবন্ধী সুরাইয়া। কিন্তু ঢাবিতে ভর্তির সুযোগ হলো না তার। মেয়েটির পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)।

শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া সুতির পাড় গ্রামের মাওলানা মো: ছফির উদ্দিন ও মুর্শিদা ছফিরের প্রতিবন্ধী কন্যা ছুরাইয়া (১৮)। প্রতিবন্ধী ছুরাইয়া ছোট থেকেই লেখা পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। প্রতিবন্ধী হওয়ায় হাত দিয়ে কোন কাজ করা বা লেখার শক্তি নেই তার হাতে। তাই সে তার দুই পা দিয়েই লেখার চেষ্টা করতে থাকে। বাক প্রতিবন্ধী থাকলেও শিক্ষকদের কথা শুনেই সে পড়া শিখতো। প্রথমে সে তার গ্রামের বাড়ী আন্ধারিয়া সুতির পাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া শুরু করে। কারোর সাহায্য ছাড়াই দুই পায়ে লিখেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এর পর সে আন্ধারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সলে জেএসসিতে জিপিএ-৪ ও ২০১৮ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.১৭ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আর ২০২০ সালে শেরপুর মডেল গার্লস ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। এলাকাবাসী প্রথমে তাকে অবহেলা করলেও ছুরাইয়ার এ অধম্য চেষ্টায় এখন তাকে উদাহরণ মনে করে সবাই। এলাকাবাসীর দাবী ছিলো সরকার যেন এ মেয়েটির দিকে দৃষ্টি দেন।

প্রতিবন্ধী ছুরাইয়ার স্বপ্ন, সে ভবিষ্যতে প্রথম শ্রেণীর অফিসার হবে। স্বপ পুরনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ”খ” ইউনিটে অংশ নিয়েছিলো এবছর। দু পায়ে লিখে পরীক্ষা দেয়ায় সবার নজরেও এসছিলা সে। শুধু তাই নয় দুই পায়ে মোবাইল ব্যবহারসহ সব ধরনের কাজ করে থাকে ছুরাইয়া।

কিন্তু ছুুরাইয়ার অধম্য চেষ্টা আর ইচ্ছা শক্তির ফলে এখন সে মেধাবী শিক্ষার্থী। তাকে নিয়ে তার বাবা মার স্বপ্ন সরকারের সাহায্য পেলে একদিন সে অনেক বড় হবে।

দুই হাতেই শক্তি না থাকায় তার মা গোসল, খাওয়ানোসহ অন্যান্য কাজ করে আসছেন। ছুরাইয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তার মা মুর্শিদা ছফির।

তার চাচাতো বোন মরিয়ম আক্তার বলেন, ছুরাইয়ার চান্স না হওয়ায় আমরা অনেকটাই কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু ছুরাইয়ার অধম্য ইচ্ছা শক্তির ফলে যেকোন কলেজে পড়ে তার আশা পুরণ হবে বলে আমরা আশা করি। এতে উদাহরণ হয়ে থাকবে ছুরাইয়া। প্রতিবন্ধী ছুরাইয়ারাও পারে সব কিছু করতে।

প্রতিবেশী শাহিন মিয়া বলেন, আমরা আশা করেছিলাম মেয়েটা চান্স পাবে। কিন্তু চান্স না পেলে কি হবে আমাদের সুরাইয়া থেমে থাকার মেয়ে নয়। সে সামনে ভালো কিছু করবে।

বাবা শেরপুর চরপক্ষীমারী বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল স্কুলের সহাকারী প্রধান শিক্ষক মো: ছফির উদ্দিন জানান, আমার মেয়ে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর আমাদের আশা ছিলো তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবো। তাই তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের এ আশা পুরণ হয়নি। আমরা হাল ছেড়ে দেব না। সরকারের কাছে দাবী প্রতিবন্ধী কোটায় যেন আমার মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার দেওয়া হয়। আমার মেয়েটির আজকের অবস্থানে নিয়ে আসার জন্য তার মায়ের ভুমিকা অনেক।

মা মুর্শিদা ছফির জানান, আমার মেয়েটার স্বপ্ন পূরণে সরকারের সহায়তা চাই। সরকারের কাছে আমাদের দাবী, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী কোটায় যেন আমার মেয়েটা চান্স পাই। আমার মেয়ে আর আট-দশটা মেয়ের মত স্বাভাবিক নয়। আমার মেয়েটা চান্স না পাওয়ায় সারারাত কেদেঁছে আর বলেছে আমি কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবো না। আমার আশা কি শেষ হয়ে যাবে।

মন্তব্য

আরও দেখুন

নতুন যুগ টিভি